Thursday, October 1, 2015

পররাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে হঠাৎ অস্থিরতা

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে হঠাৎ এক ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান একটি নীতি অনুসরণ করে আসছিল। সেই নীতি অনুসারে প্রতিবেশী ভারতের সাথে ছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ঘোষিত-অঘোষিত কৌশলগত সম্পর্ক। দেশটির উত্তর-পূর্বাংশের বিদ্রোহ দমন ও অন্যান্য নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো রাখঢাক ছাড়াই বাংলাদেশ সহায়তা করেছে। ভারতের অনুকূলে ট্রানজিট এবং কানেকটিভিটি প্রদানের ইস্যুতে করেছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা। দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত শক্তিকে দমন বা উৎখাতের জন্য সম্ভব সবকিছু করা হয়েছে। এ জন্য বড় রকমের অস্থিরতা সৃষ্টির মতো অবস্থা মোকাবেলার ঝুঁকিও নেয়া হয়েছে। 

গত সাড়ে ছয় বছরে ৫২টির বেশি দ্বিপক্ষীয় দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে। এর মধ্যে কানেকটিভিটি ও ট্রানজিট উন্নয়ন, জ্বালানি, অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, পরিবেশ এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত নানা ইস্যু রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে সীমান্ত ইস্যু, সিকিউরিটি ও ল’ এনফোর্সমেন্ট সহযোগিতা, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন, কানেকটিভিটি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে কিছু উদ্যোগের বাস্তবায়ন হয়েছে। ট্রানজিট ও কানেকটিভিটির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া ও নেপাল মোটর ভেহিক্যাল অ্যাগ্রিমেন্ট, টু ওয়ে কোস্টাল শিপিং অ্যাগ্রিমেন্ট এবং ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট কার্যকর করার বিষয় বেশ এগিয়েছে।

ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা এবং সংবেদনশীল অন্যান্য ইস্যুতে সরকার অঘোষিতভাবে নীরব সহযোগিতা করে গেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বা রাজনৈতিক কনজাম্পশনের জন্য প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে কিছু রেটরিক ধরনের বৈরী বা বিদ্বেষ প্রকাশমূলক কথাবার্তা সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বলা হয়েছে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে অনুসৃত নীতিতে তাদের স্বার্থহানির মতো কোনো কিছু করা হয়নি। ২০১৩ সালে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দেশটির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে চাওয়া টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১২ সালে হিলারি ক্লিনটন-দীপু মনি দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার ব্যাপারে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এর আওতায় দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে পরস্পরের স্বার্থে অভিন্ন অবস্থান গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়। দু’দেশের মধ্যে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ব্যাপারেও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছিল। একই সাথে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার বিবেচিত হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এর আওতায় দু’দেশের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এর বিপরীত ক্ষেত্রে, বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের সাথেও সমান্তরাল সম্পর্ক রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চীনের অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রতি অধিক গুরুত্ব দেয়ার নীতি অনুসরণ করার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নানা ধরনের কন্টাক্ট দিয়ে বোঝানো হয়েছে, সরকার চীনা স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে পুরোপুরি সজাগ। গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো কিছু সংবেদনশীল কাজের ব্যাপারেও চীনকে অব্যাহতভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাওয়া হয়েছে। দু’দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ইতোমধ্যেই এক হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা যেকোনো দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অঙ্ক।

বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ও সাম্প্রতিক সময়ে প্রভাব বিস্তারের ব্যাপারে আগ্রাসী হয়ে ওঠা রাশিয়ার সাথেও সরকার সচেতনভাবে নানা ধরনের স্বার্থগত সম্পর্ক নির্মাণ করছে এবং পুরনো লেনদেন অব্যাহত রাখছে। এ ক্ষেত্রে তেল ও গ্যাস খাতে রাশিয়ার গ্যাজপ্রমের সাথে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় যে কাজটি রাশিয়াকে দেয়া হয়েছে, তা হলো- ২০০ কোটি ডলার (১৬ হাজার কোটি টাকা) ব্যয় সাপেক্ষ দুই হাজার মেগাওয়াটের পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ। এ ব্যাপারে দেশের ভেতরে-বাইরে কোনো ধরনের সমালোচনাকেই গুরুত্ব দেয়া হয়নি। সারা বিশ্ব যেখানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ বা অন্যান্য প্রকল্পের ঝুঁকি বিবেচনায় এ ধরনের প্রকল্প ধীরে ধীরে পরিত্যাগ করছে, সেখানে রাশিয়ার মতো দেশের দুর্ঘটনাপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পারমাণবিক প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নও শুরু করে দেয়া হয়েছে। 

সংবিধান থেকে মুসলিম দেশগুলোর সাথে বিশেষ সম্পর্ক রাখার অনুচ্ছেদ বাতিল এবং মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠভাবে চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সরকারের নীতিতে দৃশ্যমান অনাগ্রহই ব্যক্ত হয়েছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তাদের সাথে সম্পর্ক যাতে ভেঙে না পড়ে, সে জন্যও নানাভাবে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও হিসাব নিকাশকে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষভাবে। 

একটি প্রতিবেশী দেশের সাথে নির্ভরশীলতা এবং বিশেষ সম্পর্ক রেখে বাকি শক্তিগুলোর সাথে কৌশলগত ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের কৌশলী পদক্ষেপ নেয়ার কথা, তা সব ক্ষেত্রেই সম্ভব হয়েছে, তা বলা যাবে না। এ নিয়ে কোনো কোনো শক্তিমান দেশের সাথে সম্পর্র্কে টানাপড়েনও দেখা দিয়েছে। কিন্তু তা ম্যানেজ করার ক্ষেত্রে সরকার নানাভাবে সফলও হয়েছে। ফলে সরকারের পতন ঘটার মতো পরিস্থিতি বিভিন্ন সময় দেখা দিয়েছে বলে মনে করা হলেও কার্যক্ষেত্রে সে রকম কিছু ঘটেনি। লেজিটিমেসি বা বৈধতা প্রশ্নে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করে কেবল রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও পুলিশি শক্তি প্রয়োগে সরকার ক্ষমতাকে অব্যাহত রাখতে পেরেছে, যা অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয় ছিল বিশ্বকে যেসব করপোরেট ও স্বার্থগত গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের মূল জায়গার সাথে বিশেষ সম্পর্ক তৈরি করা। সরকার এ ব্যাপারে বৈশ্বিকভাবে প্রভাবশালী ও কার্যকর উচ্চ ক্ষমতার লবিস্ট ফার্মের সহায়তা নিতে পেরেছে। 

তবে ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘ হতে থাকলে পরস্পর বৈরী শক্তিগুলোর সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা অনেক সময় দুরূহ হয়ে পড়ে। নানা ধরনের বৈশ্বিক স্বার্থগত সঙ্ঘাত দেখা দেয় বিভিন্ন বিপরীত পক্ষকে দেয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষার ব্যাপারে। এ সঙ্ঘাতে সৃষ্ট চাপের মুখে অনেক প্রতিশ্রুতি রক্ষা সম্ভব হয় না এবং এতে বিশ্বাস হারানোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তেমন একটি চ্যালেঞ্জ সরকার এখন মোকাবেলা করছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। 

পররাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরনের বিশেষ অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ভারতের ক্ষমতায় পালাবদল ঘটে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের বিদায়ের পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার আসায় বাংলাদেশে তাদের অনুসৃত নীতিতে কিছু পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু গত দেড় বছরে তেমন কিছু সেভাবে দৃশ্যমান হয়নি। বরং আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের আমলা, গোয়েন্দা ও সিভিল সোসাইটিকে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা ভালো ফল দিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় এ ক্ষেত্রে কিছুুটা ব্যতিক্রম ঘটার মতো সঙ্কেত পাওয়া যাচ্ছে। ভারতে সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের ব্যাপারে একটি পরিবর্তন বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল। সেটি হলো, সরকারের সাথে দিল্লির এক ধরনের মসৃণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রচেষ্টা থাকলেও অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সাথে সমান্তরাল সম্পর্ক সৃষ্টির চেষ্টা। কূটনীতিতে যেটাকে ‘সব ডিম এক ঝুড়িতে না রাখার নীতি’ বলে তার অংশ হিসেবে বিএনপির সাথেও এক ধরনের যোগাযোগ ভারতীয় স্টাবলিশমেন্ট তৈরি করেছে। এই যোগাযোগকে সরকার খুব বেশি যে স্বস্তির সাথে নিতে পারছে না তার ইঙ্গিত পাওয়া যায় গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকের অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় ভারতের গোয়েন্দাদের বিএনপির সাথে যোগাযোগ রক্ষার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কিছু সংবেদনশীল মন্তব্যে। 

এ মন্তব্যকে রেটরিক মনে না করার মতো কিছু কার্যক্রমও পরে দৃশ্যমান হয়। চীনকে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে দেয়ার জন্য এমওইউ চুক্তি হয়। এই সমঝোতা স্মারক বলে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড আনোয়ারার ৭৭৪ একর জমির ওপর একটি বিশেষ শিল্প জোন স্থাপন করবে। এর বাইরে সেই আনোয়ারারই আরেকটি স্থানে অন্য এক চীনা কোম্পানি চায়না মেশিনারি ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড এক্সপোর্ট কপোরেশনকে ৫০৪ একর এলাকা ভিন্ন একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য দেয়ার বিষয়ও বিবেচনার মধ্যে রয়েছে। এর বাইরে গভীর সমুদ্রবন্দর এবং একটি বিমানবন্দর নির্মাণের কাজও চীনা প্রতিষ্ঠানকে দেয়ার ব্যাপারে নতুন করে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এর বাইরে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ইন্টারনেটের থ্রি-জি প্রযুক্তি চালু এবং ২৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণসহ হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব সরকারের অনুমোদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চীনের সাথে যখন এ ধরনের জোরালো সম্পর্ক নির্মাণের প্রচেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে, তখন দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চার দশক পূর্তিকে উপলক্ষ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের জন্য একটি চেষ্টা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সফর চীনের দুই নাম্বার ক্ষমতাধর ব্যক্তির কোনো সাধারণ সফর হবে না। এটি হবে চীনের সাথে বাংলাদেশের নতুন করে কৌশলগত ও বড় রকমের অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরির সফর। 

এশিয়ার রাজনীতিতে চীনের এমন এক অবস্থান রয়েছে যার কারণে দেশটির সাথে আমেরিকা বা অন্য কোনো পাশ্চাত্য দেশ যেমন নানাভাবে এই অঞ্চলে কাজের সম্পর্ক বজায় রাখে, তেমনিভাবে ভারতও তার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অন্যান্য বৈশ্বিক সাধারণ স্বার্থে সম্পর্ক বজায় রাখে বেইজিংয়ের সাথে। কিন্তু অন্য কোনো দেশ চীনা বলয়ে চলে যাক, সেটি কোনোভাবেই মেনে নিতে চায় না ভারত বা আমেরিকা কেউই। শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও নেপাল নিয়ে এ ধরনের টানাপড়েন নিকট অতীতে হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের কিছু ঘটার ব্যাপারে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছে। 

আন্তঃআঞ্চলিক এ ধরনের মেরুকরণ সাধারণত বড় কোনো গেমের অংশ হিসেবে ঘটে থাকে। বাংলাদেশ তেমন এক পর্বে নতুন করে প্রবেশের কিছু লক্ষণ এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ কয়েকটি ঘটনার মধ্যে রয়েছে, ট্রানজিটের অবকাঠামো নির্মাণের কাজে কিছুটা ধীর গতি সৃষ্টি এবং ট্রানজিট ফি নির্ধারণ নিয়ে ভারতের সাথে বিরোধের বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসা, নিরাপত্তার অজুহাতে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট টিমের শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ সফরে না আসা এবং এর পরপরই কূটনৈতিক জোনে ইতালিয়ান নাগরিক হত্যা ও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের বাংলাদেশে চলাচলের ক্ষেত্রে তাদের নাগরিকদের সতর্ক করা। তদুপরি, এর সাথে জঙ্গি সংগঠন আইএসকে সংশ্লিষ্ট করে ফেলা। 

এখনকার নানা ঘটনাপরম্পরা অবলোকন করলে মনে হয় বর্তমানে যা কিছু ঘটছে, তা অনেক বড় কিছুর ইঙ্গিত মাত্র। এটি হতে পারে বাংলাদেশে জঙ্গি উত্থানের এমন এক আশঙ্কা সৃষ্টি করা, যাতে পাশ্চাত্য অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে নতুন করে যে চাপ সৃষ্টি করছে তা থেকে বিরত থাকে এবং দমনমূলক নীতি চালিয়ে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার বিষয়ে সরকারকে অনুমোদন করে। চীনের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার বিষয়টিকে একটি হুমকি হিসেবে সামনে রাখা যেন নির্বাচনের জন্য চাপাচাপি করা হলে চীন-রাশিয়ার বলয়ে কৌশলগত অবস্থান নিতে পারে এ সরকার। আর তারা নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতায় থাকতে সব ধরনের সহায়তা দিতে পারে। এ বার্তাটি পাশ্চাত্য ও ভারত দুই পক্ষের কাছে দেয়ার একটি প্রচেষ্টা সাম্প্রতিক ঘটনায় থাকতে পারে। 

বাংলাদেশের মতো একটি দেশে কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে এ ধরনের ‘খেলাধুলা’ যে বড় রকমের ঝুঁকি তৈরি করে, তার উদাহরণ এর আগে দেখা গেছে। কিন্তু এরপরও কোন হিসাব নিকাশের ভিত্তিতে মারাত্মক ঝুঁকি গ্রহণ করার বিষয় বিবেচিত হচ্ছে তার রহস্য এখনো স্পষ্ট হচ্ছে না। এ জন্য চলমান নানা ঘটনায় গভীর নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।


No comments:

Post a Comment