Sunday, August 23, 2015

২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চায় আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগ ২০৪১ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় থাকতে চায়। এই জন্য আগামী সব নির্বাচনে যাতে জয়ী হতে পারে সেই জন্য নানা পথ খোলা রাখছে। সরকারের ও শেখ হাসিনার পরিকল্পনা বর্তমান বিধানই বহাল রাখা। সেই হিসাবে তিনি আগামী নির্বাচনও বর্তমান বিধানেই করবেন। একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি আগামী নির্বাচনে বর্তমান বিধানের মধ্যে নির্বাচনে আসতে রাজি নাও হতে পারে বলে সরকারের কাছে খবর রয়েছে। এই জন্য সরকার বিএনপিকে বাদ দিয়ে একাদশ নির্বাচন করে নতুন করে কোন বিতর্ক তৈরি করতে চায় না। আর সেই জন্য নানা পরিকল্পনা রয়েছে বিএপিকে নির্বাচনে আনাকে ঘিরে। এই কারণে নানা ফর্মুলাও তৈরি হচ্ছে। 

বিএনপি, আন্তর্জাতিক মহল, জাতিসংঘ ও অন্যান্য সব দিক থেকে চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত কোন ফর্মুলা কাজে লাগবে সেটা সরকার প্রধান থেকে শুরু করে কেউ জানেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিনা এটা নিয়েও সরকারের ভেতরে সন্দেহ রয়েছে। তবে পরিবেশ পরিস্থিতি যাই হোক না কেন সরকার পুরো পরিস্থিতি সামাল দিয়ে যাতে টার্গেট পূরণ করতে পারেন সেটাই চাইছেন। এই জন্য সব পরিকল্পনাই চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সরকারের নীতি নির্ধারক একজন মন্ত্রী বলেন, সংবিধানে বর্ধমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। ওই বিধানের বলে শেখ হাসিনারই আগামী নির্বাচনে সরকার প্রধান। সেটা বিএনপি মানুক কিংবা না মানুক। নির্বাচনে আসুক কিংবা না আসুক। শেখ হাসিনা তার অধীনেই নির্বাচন করতে চান। এই জন্য সংবিধানেও কোন পরিবর্তন আনতে চাইছেন না। 

এদিকে সরকার সেই ফর্মুলা মেনেই বর্তমান বিধানে থাকতে চাইছে। তারপরও যদি কোন কারণে ওই বিধানের পরিবর্তন সমঝোতার খাতিরে আনতেও হয় সেখানেও হাইকোর্ট নতুন একটি দুয়ার খুলে দিয়েছে। সেখানে দুটি ফর্মুলাও দিয়েছেন হাইকোর্ট। সূত্র জানায়, হাইকোর্টের বেঞ্চ নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে ফর্মুলা দিয়েছেন তার উপর ভিত্তি করে সংবিধানে কোন পরিবর্তন আনবে না সরকার। আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের জন্য নতুন কোন ফর্মুলা অনুসরণ করা হবে না। সংবিধানে স্পষ্ট করেই বলা আছে কোন সরকারের অধিনে কেমন করে নির্বাচন হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও বর্তমান বিধানের আলোকেই হবে। এই বিধানে কোন পরিবর্তন আনার কোন সম্ভাবনা নেই। প্রধানমন্ত্রী এই বিধান বহাল রাখতে চান। 

এটর্নী জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, অনেক সময় আমাদের আদালতের বিচারপতিগণ সংশ্লিষ্ট কোন বিষয় কিংবা কাছাকাছি কোন বিষয় যদি আদালতে বিচারাধীন থাকে ওই বিষয়ে রায় দেওয়ার সময়ে অনেক বিচারপতিই তাদের মতামত দেন। কিন্তু সেটা মানতেই হবে এমন কোন বিধান নেই। চাইলে আবারও সেটা বিবেচনা করা যেতে পারে যদি কখনো প্রয়োজন হয়। সেটাতো এখন বলা যাবে না। এদিকে সরকার সংবিধানে বর্তমান বিধান বহাল রাখার সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেও নিবার্চনকালীন সরকার নিয়ে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে যে নতুন রূপরেখা দিয়েছেন তাতে বিএনপি তা পর্যালোচনা করছে। তবে সেটাতে সমাধান না হলেও এটা দিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হতে পারে। যেকোনো পদ্ধতি বা রূপরেখা, নির্বাচন কমিশন এবং নিবার্চনকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনা হওয়াটা জরুরি। সেক্ষেত্রে হাইকোর্ট যদি কোনো পরামর্শ দিয়ে থাকেন তবে সেটা বিবেচনা করা যেতে পারে। নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে বিএনপির নেতারা বলেন, যদি ইসিকে নিরপেক্ষ করা যেত তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান এমনিতেই হতে পারত। তবে সূত্র জানায়, কোন কারণে প্রয়োজন হলে ও বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা হলে নতুন করে যাতে কোন ফর্মুলা করতে হলে কোর্টের ফর্মুলা অনুসরণ করতে পারেন। 

এদিকে সরকার ফর্মুলা ছাড়াও বিএনপিকে দমন ও ঠেকানোর চেষ্টা এখনও বন্ধ রাখেনি। এটা অব্যাহত আছে। এই কারণে বিএনপি এখন অনেকটাই কোনঠাসা। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে ২০১৫ সালে এগুবেন ভেবেছিলেন ও পরিকল্পনা করেছিলেন সেইভাবে এগুতে পারছেন না। নভেম্বরের মধ্যে দল গুছিয়ে আন্দোলন এর জন্য প্রস্তুত হওয়া, এই ব্যাপারে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে পরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ, দলের নেতাদের দায়িত্ব আলাদা করে দেওয়া ও আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা পাওয়া এর কোনটি তার সময় মতো হচ্ছে না। তার ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের পরিকল্পনার কিছু কিছু আন্দাজ করতে পারছেন খালেদা জিয়া। এই জন্য ইতোমধ্যে তার পরিকল্পনায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন। আরো আনতে হবে বলে মনে করছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, আবার কবে নাগাদ আন্দোলন শুরু করা সম্ভব হবে সেটা এন বলা যাচ্ছে না। দল পুনর্গঠন করেই সময় ও সুযোগ বুঝে আন্দোলন। আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে এখনও তেমন কোন আশ্বাস মিলেনি। এই জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। 

সরকারের একজন নীতি নির্ধারক মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের বাইরে আমরা কোন কাজ করিনি সেটাও বোঝানোর চেষ্টাই করেছি। তারা বিষয়টি বুঝতে পারছেন বলে এখন কথা বলছেন না। তারা সেখানে গিয়ে সুবিধা করতে পারবে না। সূত্র জানায়, সরকার ও বিএনপির তরফ থেকে যোগাযোগ বাড়ানোর কারণে এখনও আন্তর্জাতিক মহল আগাম নির্বাচন চাইলেও তারা ঠিক কি ধরনের সিদ্ধান্ত দিবেন সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো কয়েকমাস। সূত্র জানায়, বিএনপিকে ঠেকাতেও পারলেও সরকার ও আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক মহলকে পুরোপুরি ম্যানেজ করতে পারছেন না। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন চৌদ্দ দলীয় জোট সরকার আগামী ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন থাকতে সরকার ব্যাপক উন্নয়নের কথা বলছে। নানা উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছে। এই অবস্থায় তারা উন্নয়ন কাজও শুরু করেছে। সেটা করলেও জনগণের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠ,ু নিরপেক্ষ নির্বাচনে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার আকাঙ্খা রয়েছে। সেই সঙ্গে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক শক্তির বিভিন্ন মহল থেকেও সরকারের উপর একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করার ব্যাপারে চাপ রয়েছে। 

সরকার ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর নানাভাবে আন্তর্জাতিক মহলকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছে, তবে এখনও তা পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনও তাদের মতো করেই সব দলের অংশগ্রহণে আগাম নির্বাচনের কথা বলে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে বর্তমান সরকার সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে চেষ্টা করলেও সেটা কাজে আসেনি। তারা সরকারের কথায় ম্যানেজ হচ্ছে না। নির্বাচন করার কথা বললেই যাচ্ছে। সেই সঙ্গে জাতিসংঘও একটি নির্বাচন চায়। এদিকে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যাতে আবারও ক্ষমতায় আসতে পারে সেটাও ঠিক করছে। এই জন্য বিএনপির অভিযোগ সরকার আঠারো বছরের কম বয়সীদের ভোটার করছে। আঠারো বছরের কম বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হলে ও তাদেরকে ভোটার করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাখা হলে তারা আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার উপযুক্ত হবেন। এই সরকারের আমলে তারা ভোটার হলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জোটের প্রতিই সমর্থন দিতে পারে। এই কারণে তারা আগামী নির্বাচনে ভোটের ফল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপি। সরকার দূরভিসন্ধি থেকেই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে এই কাজটি করাচ্ছে। বিএনপি চাইছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন যাতে এই কাজে সফল হতে না পারে।

জুমল্যান্ড! বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এ যেন নতুন এক ইজরাঈল

জুমল্যান্ড! বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এ যেন নতুন এক ইজরাঈল। প্রাথমিকভাবে রাঙামাটি-বান্দরবান-খাগড়াছড়ি এই ৩টি প্রদেশ নিয়েই গঠিত হতে যাচ্ছে উপজাতি চাকমাদের স্বাধীন রাষ্ট্র জুমল্যান্ড। কোন সন্দেহ নেই যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থায় না থাকলে জুমল্যান্ড বহু আগেই স্বাধীন হয়ে যেত। তবে শুধুমাত্র সেনাবাহিনী দিয়ে তাদেরকে আর কতদিন দমিয়ে রাখা যাবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ইতোমধ্যেই চাকমারা নিজেদের একটি সেনাবাহিনী গঠন করেছে- যাদের রয়েছে নিজস্ব ইউনিফর্ম এবং আগ্নেয়াস্ত্র (সবাই জানেন, কয়েক দিন আগে সেনাবাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে ৫ জন সশস্ত্র চাকমা সেনা নিহত হয়েছে)। এই উপজাতীরা তাদের নিজস্ব পতাকাও তৈরি করেছে। চাকমাদের দ্বারা পরিচালিত ফেসবুক পেজ থেকে প্রতিনিয়নই বাংলাদেশ বিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। তারা বাংলাদেশকে অস্বীকার করে, এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে। জুমল্যান্ডকে স্বাধীন করার জন্য তারা আরো নানামুখী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। জুমল্যান্ড থেকে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার এবং চাকমাদেরকে স্বাধীনতা দেয়ার জন্য পরবর্তীতে বাংলাদেশের উপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া বার্মা সহ বিভিন্ন বিদেশী রাষ্ট্র উপজাতিদেরকে সকল প্রকার সমর্থন ও সহায়তা দিতে আগ্রহী।

এখনই পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশের পাশে হয়তো গড়ে উঠবে আরেকটি ইজরাঈল। প্রথমে পার্বত্য এলাকা দখল করে তারা পরবর্তীতে বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকার দিকে নজর দেবে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য কেবল সেনাবাহিনীর উপর নির্ভর না করে পার্বত্য এলাকায় আরো ব্যাপক পরিমানে বাঙালি বসতি স্থাপন করা উচিৎ। প্রয়োজনে পার্বত্য এলাকায় শিল্প কারখানা, গার্মেন্টস ইত্যাদি নির্মান করে দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে পার্বত্য এলাকায় লোক স্থানান্তর করতে হবে। মোটকথা, পার্বত্য এলাকায় বাঙালীরা যাতে সংখ্যাগরিষ্ট হয় সেটি নিশ্চিৎ করা এমুহুর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার জন্য গোপনে সংগঠিত হচ্ছে চাকমা সেনাবাহিনী। চাকমা নেতা সন্তু লারমা জুমল্যান্ডের স্বাধীনতা ঘোষনা করলেই শুরু হয়ে যাবে প্রতিরোধ যুদ্ধ। হানাদার বাঙালী বাহিনীকে জুমল্যান্ড থেকে না হটিয়ে ঘরে ফিরতে চায় না চাকমা গেরিলারা। একবার শান্তিচুক্তি করে তারা যে ভুল করেছে সেই ভুল দ্বিতীয়বার করতে তারা আগ্রহী নয়। শান্তিচুক্তির পর অস্ত্র সমর্পন করলেও আবারো নতুন করে সশস্ত্র হচ্ছে তারা। মাতৃভূমি জুমল্যান্ডকে দখলদার বাঙালীমুক্ত (তাদের মতে) করার জন্য শেষ চেষ্টাটা করতে চায় মুক্তিকামী চাকমা জনতা। আর এই যুদ্ধে প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও জনবল দিয়ে চাকমাদেরকে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে বন্ধুরাষ্ট্র বার্মা। দেশ স্বাধীন হলে স্বাধীনতার ঘোষক সন্তু লারমা হবেন স্বাধীন জুমল্যান্ডের প্রথম রাষ্ট্রপতি। স্বাধীনতা অর্জনের পর জুমল্যান্ড আলাদা রাষ্ট্র হবে নাকি বার্মার সাথে যোগ দেবে সে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য একটি গণভোটের আয়োজন করা হতে পারে।

Tuesday, August 18, 2015

বিনা ভিসাতে বিদেশ ভ্রমন

শিরোনাম দেখে হয়তো অনেকে ভ্রু কুঁচকাচ্ছেন। ভাবছেন এটাও কি সম্ভব! জি, বিশ্বের এমন কিছু দেশ আছে যেখানে যেতে ভিসার প্রয়োজন নেই, শুধু বাংলাদেশের পাসপোর্ট থাকলেই হবে। আর এমন কিছু দেশ আছে যেখানে ল্যান্ড করার পরে এয়ারপোর্ট থেকে (on arrival) ভিসা পাওয়া যায়, তবে কোন কোন দেশের ক্ষেত্রে অবশ্য ফি দিতে হয়।

ভিসা ছাড়া যাওয়া যাবে এবং অবস্থান করা যাবে এমন দেশগুলো হচ্ছে এশিয়া মাহাদেশের মধ্যে
ভুটান (যত দিন ইচ্ছা),
শ্রীলংকা (৩০ দিন),
দ: কোরিয়া (৯০ দিন),

আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে
কেনিয়া (৩ মাস),
মালাউই (৯০ দিন),
সেশেল (১ মাস),

আমেরিকা মাহাদেশের মধ্যে
ডোমিনিকা (২১ দিন),
হাইতি (৩ মাস),
গ্রানাডা (৩ মাস),
সেন্ট কিট্‌স এ্যান্ড নেভিস (৩ মাস),
সেন্ড ভিনসেন্ট ও গ্রানাডাউন দ্বীপপুঞ্জ (১ মাস),
টার্কস ও কেইকোস দ্বীপপুঞ্জ (৩০ দিন),
মন্টসের্রাট (৩ মাস),
ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপমালা (৩০ দিন),

ওশেনিয়া মাহাদেশের মধ্যে
ফিজি (৬ মাস),
কুক দ্বীপপুঞ্জ (৩১ দিন),
নাউরু (৩০ দিন),
পালাউ (৩০ দিন),
সামোয়া (৬০ দিন),
টুভালু (১ মাস),
নুউ (৩০ দিন),
ভানুয়াটু (৩০ দিন)
এবং মাক্রোনেশিয়া তিলপারাষ্ট্র (৩০ দিন) অন্যতম।

এছাড়াও যেসব দেশে প্রবেশের সময় (on arrival) ভিসা পাওয়া যাবে সেগুলো হচ্ছে এশিয়ার মধ্যে
আজারবাইজান (৩০ দিন, ফি ১০০ ডলার),
জর্জিয়া (৩ মাস), লাউস (৩০ দিন, ফি ৩০ ডলার),
মালদ্বীপ(৩০ দিন),
মাকাউ (৩০ দিন),
নেপাল (৬০ দিন, ফি ৩০ ডলার),
সিরিয়া (১৫ দিন),
পূর্ব তিমুর (৩০ দিন, ফি ৩০ ডলার),

আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে
বুরুন্ডি, কেপ ভার্দ, কোমোরোস, জিবুতি (১ মাস, ফি ৫০০ জিবুতিয়ান ফ্রাঙ্ক), মাদাগাস্কার (৯০ দিন, ফ্রি ১,৪০,০০০ এমজিএ),
মোজাম্বিক (৩০ দিন, ফি ২৫ ডলার),
টোগো (৭ দিন, ফি ৩৫,০০০ এক্সডিএফ)
এবং উগান্ডা (৩ মাস, ফি ৩০ ডলার)।
ফ্লাইট, টিকিট, হোটেল ইত্যাদি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে
http://travel.yahoo.com/
http://www.airfare.com/
http://www.farecompare.com/
এসব ওয়েবসাইট থেকে।
তবে বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট রওনা হবার সময় কিছু সুযোগ সন্ধানী অফিসার ভিসা নেই বা আপনার সমস্যা হবে এই মর্মে হয়রানি করতে পারে টু-পাই কামানোর জন্য। কেউ এসব দেশে বেড়াতে যেতে চাইলে টিকিট কেনার সময় আরো তথ্য জেনে নিতে পারেন।
এ বিষয়ে কারও কোন সন্দেহ থাকলে google এ search দিয়েও যাচাই করে নিতে পারেন। তবে তা ইংরেজিতে আসবে। এটা বলার কারণ আপনাদের জন্য কষ্ট করে কোন গুরুত্বপুর্ণ তথ্য যোগাড় করে পোষ্ট দিলে তা অনেকেই ভূয়া বলে উড়িয়ে দেয়।

পোষ্টটি উপকারি মনে হলে শেয়ার করে আপনাদের বন্ধুদেরও দেখার সুযোগ করে দিন যাতে আপনার বন্ধুও পোষ্টটি পড়ে উপকৃত হয়।

Monday, August 17, 2015

বঙ্গবন্ধুর প্রায় সকল মন্ত্রীই মোশতাক মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়েছিলেনঃ তাদের বিচার হয়নি কেনো ???

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন তারই সরকারের অর্থমন্ত্রী ও বাকশালের কার্যকরী কমিটির ১৫ সদস্যের ৪ নম্বর সদস্য খন্দকার মোশতাক আহমেদ।এককথায় বঙ্গবন্ধু এবং চার নেতাকে বাদে এই সরকার ছিলো আওয়ামী লীগ সরকার।জাতীয় সংসদ বহাল থাকে যাতে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্টতা ছিলো আওয়ামী লীগের।এমনকি বঙ্গবন্ধুর অনুগত সেনা,নৌ ,বিমান বাহিনী এবং বিডিআর প্রধান ১৫ই আগস্ট,১৯৭৫ সকালেই খন্দকার মোশতাকের প্রতি পূর্ন আনুগত্য ঘোষনা করেন।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সন্তান মোশতাক আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯৪২ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম মহাসচিব এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্ব পালন করেন তিনি।

কতিপয় সেনা সদস্যদের হাতে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মোশতাক আহমেদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। আশ্চর্য্যজনক বিষয় হল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তাক্ত লাশ ৩২ নম্বরের  সিঁড়িতে রেখেই তার দীর্ঘকালের সহচররা খন্দকার মোশতাক আহমদের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন।

যারা মন্ত্রী না হয়ে হত্যার প্রতিবাদ করে কারাগারকে বেছে নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে তাজউদ্দীন আহমদসহ বেশ কয়েকজন বঙ্গবন্ধুর শাসনামলের মাঝামাঝি সময়ে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন।

মোশতাকের মন্ত্রিসভা বহাল থাকা অবস্থাই ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। বঙ্গবন্ধু হত্যার ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে তারই ঘনিষ্ঠ সহচরদের মন্ত্রী হওয়ার ঘটনা খন্দকার মোশতাক সরকারের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু হত্যা-পরবর্তী কারারুদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আমীর হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগদানকারী সদস্যদের ফের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য না করলেও দুই নেতাই একবাক্যে বলেছেন, সে দিন যদি জাতীয় চার নেতার মতো অন্য মন্ত্রীরা মোশতাকের মন্ত্রিত্ব গ্রহণ না করতেন তাহলে রাজনীতির ইতিহাস ভিন্ন হতে পারতো। কলঙ্কের কালিমা জাতিকে এতকাল বহন করতে হতো না। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতে ৩৮ বছর লাগত না।

খন্দকার মোশতাকের ৮১ দিনের শাসনামলে সঙ্গী ছিলেন বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার ২১ সদস্য। মোশতাকের উপরাষ্ট্রপতি হলেন মোহাম্মদউল্লাহ।

আর মন্ত্রিসভার সদস্যরা হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর, পরিকল্পনামন্ত্রী অধ্যাপক ইউসুফ আলী, অর্থমন্ত্রী ড. আজিজুর রহমান মল্লিক, শিক্ষামন্ত্রী ড. মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আবদুল মান্নান, কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী আবদুল মোমিন, এলজিআরডি মন্ত্রী ফণিভূষণ মজুমদার, নৌপরিবহনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, গণপূর্ত ও গৃহায়নমন্ত্রী সোহরাব হোসেন। প্রতিমন্ত্রীরা হলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমান, ভূমি ও বিমান প্রতিমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, রেল ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী নূরুল ইসলাম মঞ্জুর, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, শিল্প প্রতিমন্ত্রী নূরুল ইসলাম চৌধুরী, ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রতিমন্ত্রী ডা. ক্ষিতিশ চন্দ্র মণ্ডল, পশু ও মৎস্য প্রতিমন্ত্রী রিয়াজউদ্দিন আহমদ ভোলা মিয়া, যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ আলতাফ হোসেন ও মোমিনউদ্দিন আহমদ (বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় ছিলেন না)। এ ছাড়াও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী রাষ্ট্রপতি মোশতাকের প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা হয়েছিলেন মন্ত্রীর সমমর্যাদায়।

খন্দকার মোশতাক সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের পথ উন্মুক্ত করে দেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মহিউদ্দীন আহমদ বিশেষ দূত হয়ে। বঙ্গবন্ধুর বিশেষ দূত বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৫ আগস্ট সংঘটিত হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ আগে ৮ আগস্ট দেশে ফিরে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

বঙ্গবন্ধু সরকারের আরেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদউল্লাহর স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রবর্তন হয়েছিল বাকশাল ব্যবস্থা। বাকশাল ব্যবস্থার অধীনে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি হলে মোহাম্মদউল্লাহ মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন। ১৫ আগস্টের পর মোশতাকের উপরাষ্ট্রপতি হন মোহাম্মদউল্লাহ।পরে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। জিয়াউর রহমান হত্যার পর বিচারপতি আবদুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি হলে উপরাষ্ট্রপতি করা হয় মোহাম্মদউল্লাহকে। কিন্তু শপথের দুই দিনের মধ্যে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ ক্ষমতা দখল করলে বিএনপির শেষ দুর্গের পতন ঘটে।
মোশতাক সামরিক শাসন কায়েম করলেও জাতীয় সংসদ বহাল রেখেছিলেন। স্পিকার ছিলেন আবদুল মালেক উকিল। স্পিকার হওয়ার আগে ছিলেন বঙ্গবন্ধু সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পিকার হিসেবে বিদেশে স্পিকারদের একটি সম্মেলনেও যোগ দেন।

বঙ্গবন্ধু সরকারের আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর মোশতাকেরও আইনমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি কুখ্যাত ইনডেমনিটি নামক বিলটির রচয়িতা।

মোশতাকের পতনের পর ফণিভূষণ মজুমদার, আবদুল মান্নান, আবদুল মোমিন, সোহরাব হোসেন, অধ্যাপক ইউসুফ আলী, আবদুল মালেক উকিল, আসাদুজ্জামান খান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। মালেক উকিল আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন শেখ হাসিনা নেতৃত্বে আসার আগ পর্যন্ত। অধ্যাপক ইউসুফ আলী মোশতাকের পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগের (মিজান) সাধারণ সম্পাদক হন। পরে যোগ দেন জিয়ার মন্ত্রিসভায়।

জিয়ার মৃত্যুর পর এরশাদেরও মন্ত্রী হন তিনি। খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রীদের মধ্যে কেউ বেঁচে না থাকলেও বেঁচে আছেন প্রতিমন্ত্রী অনেকে। মোশতাকের ডেমোক্র্যাটিক লীগ থেকে এরশাদের উপপ্রধানমন্ত্রী হয়ে আসা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন এখন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। নূরুল ইসলাম মঞ্জুরও বিএনপিতে আছেন।

আবু সাঈদ চৌধুরী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে না এলেও মহিউদ্দীন আহমদ ফিরে আসেন। ১৯৮৩ সালের ৮ আগস্ট তিনি বহিষ্কার হলে বাকশাল গঠন করে তার চেয়ারম্যান হন। ১৯৯৩ সালে বাকশাল আওয়ামী লীগে অন্তর্ভুক্ত হলে তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়। বেঁচে নেই তিনিও। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হলেও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে পরাজিত হন। আবদুল মান্নান ও আবদুল মোমিনও বেঁচে নেই। ২০০২ সাল পর্যন্ত দুজনই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। খন্দকার আসাদুজ্জামান আওয়ামী লীগে সক্রিয় ছিলেন। বেঁচে নেই বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীও।

তার পুত্র শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হলেও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত হন। মোশতাক মন্ত্রিসভার সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজী আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি। দলের উপদেষ্টা পরিষদেরও সদস্য তিনি। ১৯৯৬ সালেও এমপি ছিলেন।

সৈয়দ আলতাফ হোসেন বাকশাল প্রবর্তনের পর (ন্যাপ মোজাফফর) থেকে প্রতিমন্ত্রী হন। পরে মোশতাকের প্রতিমন্ত্রী। মোশতাকের পতনের পর আবার ন্যাপের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। মোমিনউদ্দিন আহমদ বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভায় না থাকলেও মোশতাক তাকে প্রতিমন্ত্রী করেন। পরে তিনি বিএনপি হয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।

রিয়াজউদ্দিন আহমদ ভোলা মিয়াও বিএনপি হয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হন। ডা. ক্ষিতিশ চন্দ্র মণ্ডলও জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হন। মোশতাকের প্রতিমন্ত্রী নূরুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তিনি সামরিক বাহিনীর সমর্থন আদায়ে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

Saturday, August 1, 2015

বিদ্রোহী


বল বীর-
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারী' আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রীর!
বল বীর-
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি'
চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারা ছাড়ি'
ভূলোক দ্যূলোক গোলোক ভেদিয়া
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল বীর-
আমি চির-উন্নত শির! আমি চিরদুর্দম, দূর্বিনীত, নৃশংস,
মহাপ্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,
আমি দূর্বার,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!
আমি মানি না কো কোন আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!
আমি ধূর্জটী, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর
আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর!
বল বীর-
চির-উন্নত মম শির! আমি ঝঞ্ঝা, আমি ঘূর্ণি,
আমি পথ-সম্মুখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’।
আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ,
আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ।
আমি হাম্বীর, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল,
আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’
পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’
ফিং দিয়া দেই তিন দোল্‌;
আমি চপোলা-চপোল হিন্দোল।
আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা’,
করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা,
আমি উন্মাদ, আমি ঝঞ্ঝা!
আমি মহামারী, আমি ভীতি এ ধরীত্রির;
আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ণ চির অধীর।
বল বীর-
আমি চির-উন্নত শির! আমি চির-দূরন্ত দুর্মদ
আমি দূর্দম মম প্রাণের পেয়ালা হর্দম্‌ হ্যায় হর্দম্‌ ভরপুর্‌ মদ। আমি হোম-শিখা, আমি সাগ্নিক জমদগ্নি,
আমি যজ্ঞ, আমি পুরোহিত, আমি অগ্নি।
আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,
আমি অবসান, নিশাবসান। আমি ঈন্দ্রাণী-সুত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য
মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ তূর্য; আমি কৃষ্ণ-কন্ঠ, মন্থন-বিষ পিয়া ব্যথা বারিধির।
আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।
বল বীর-
চির-উন্নত মম শির! আমি সন্ন্যাসী, সুর সৈনিক,
আমি যুবরাজ, মম রাজবেশ ম্লান গৈরিক।
আমি বেদুইন, আমি চেঙ্গিস,
আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কূর্ণিশ।
আমি বজ্র, আমি ঈষাণ-বিষানে ওঙ্কার,
আমি ইস্রাফিলের শৃঙ্গার মহা-হুঙ্কার,
আমি পিনাক-পাণির ডমরু ত্রিশুল, ধর্মরাজের দন্ড,
আমি চক্র-মহাশঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচন্ড!
আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি দাবানল-দাহ, দহন করিব বিশ্ব।
আমি প্রাণ-খোলা হাসি উল্লাস, -আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস
আমি মহাপ্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু-গ্রাস!
আমি কভু প্রশান্ত, -কভু অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী,
আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্পহারী!
আমি প্রভঞ্জনের উচ্ছাস, আমি বারিধির মহাকল্লোল,
আমি উজ্জ্বল, আমি প্রোজ্জ্বল,
আমি উচ্ছল জল-ছল-ছল, চল ঊর্মির হিন্দোল-দোল!- আমি বন্ধনহারা কুমারীর বেনী, তন্বী নয়নে বহ্নি,
আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি! আমি উন্মন, মন-উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা-হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয় লাঞ্ছিত বুকে গতি ফের
আমি অভিমানী চির ক্ষূব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যাথা সূনিবিড়,
চিত চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর থর থর প্রথম পরশ কুমারীর!
আমি গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল ক’রে দেখা অনুখন,
আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা, তাঁর কাঁকণ-চুড়ির কন্‌-কন্‌।
আমি চির শিশু, চির কিশোর,
আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচর কাঁচুলি নিচোর!
আমি উত্তর-বায়ু মলয়-অনিল উদাস পূরবী হাওয়া,
আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীণে গান গাওয়া।
আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি
আমি মরু-নির্ঝর ঝর-ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়াছবি!
আমি তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি, এ কি উন্মাদ আমি উন্মাদ!
আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ! আমি উত্থান, আমি পতন, আমি অচেতন চিতে চেতন,
আমি বিশ্বতোরণে বৈজয়ন্তী, মানব-বিজয়-কেতন।
ছুটি ঝড়ের মতন করতালী দিয়া
স্বর্গ মর্ত্য-করতলে,
তাজী বোর্‌রাক্‌ আর উচ্চৈঃশ্রবা বাহন আমার
হিম্মত-হ্রেষা হেঁকে চলে! আমি বসুধা-বক্ষে আগ্নেয়াদ্রী, বাড়ব বহ্নি, কালানল,
আমি পাতালে মাতাল, অগ্নি-পাথার-কলরোল-কল-কোলাহল!
আমি তড়িতে চড়িয়া, উড়ে চলি জোড় তুড়ি দিয়া দিয়া লম্ফ,
আমি ত্রাস সঞ্চারি’ ভুবনে সহসা, সঞ্চারি ভূমিকম্প। ধরি বাসুকির ফণা জাপটি’-
ধরি স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের পাখা সাপটি’। আমি দেবশিশু, আমি চঞ্চল,
আমি ধৃষ্ট, আমি দাঁত দিয়া ছিঁড়ি বিশ্ব-মায়ের অঞ্চল!
আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
মহা-সিন্ধু উতলা ঘুম্‌ঘুম্‌
ঘুম্‌ চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝ্‌ঝুম
মম বাঁশরীর তানে পাশরি’।
আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী। আমি রুষে উঠে যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া,
ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোযখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া!
আমি বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল ব্যাপিয়া! আমি শ্রাবণ-প্লাবন-বন্যা,
কভু ধরনীরে করি বরণীয়া, কভু বিপুল ধ্বংস ধন্যা-
আমি ছিনিয়া আনিব বিষ্ণু-বক্ষ হইতে যুগল কন্যা!
আমি অন্যায়, আমি উল্কা, আমি শনি,
আমি ধূমকেতু জ্বালা, বিষধর কাল-ফণী!
আমি ছিন্নমস্তা চন্ডী, আমি রণদা সর্বনাশী,
আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি! আমি মৃন্ময়, আমি চিন্ময়,
আমি অজর অমর অক্ষয়, আমি অব্যয়!
আমি মানব দানব দেবতার ভয়,
বিশ্বের আমি চির-দুর্জয়,
জগদীশ্বর-ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম সত্য,
আমি তাথিয়া তাথিয়া মাথিয়া ফিরি স্বর্গ-পাতাল মর্ত্য!
আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!!
আমি সহসা আমারে চিনেছি, আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!! আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার,
নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
আমি হল বলরাম স্কন্ধে,
আমি উপাড়ি' ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে। মহা- বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল, আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না,
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না -
বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি আমি সেই দিন হব শান্ত!
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ-হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব-ভিন্ন!
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
আমি খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন! আমি চির-বিদ্রোহী বীর -
আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!