Sunday, August 23, 2015

২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চায় আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগ ২০৪১ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় থাকতে চায়। এই জন্য আগামী সব নির্বাচনে যাতে জয়ী হতে পারে সেই জন্য নানা পথ খোলা রাখছে। সরকারের ও শেখ হাসিনার পরিকল্পনা বর্তমান বিধানই বহাল রাখা। সেই হিসাবে তিনি আগামী নির্বাচনও বর্তমান বিধানেই করবেন। একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি আগামী নির্বাচনে বর্তমান বিধানের মধ্যে নির্বাচনে আসতে রাজি নাও হতে পারে বলে সরকারের কাছে খবর রয়েছে। এই জন্য সরকার বিএনপিকে বাদ দিয়ে একাদশ নির্বাচন করে নতুন করে কোন বিতর্ক তৈরি করতে চায় না। আর সেই জন্য নানা পরিকল্পনা রয়েছে বিএপিকে নির্বাচনে আনাকে ঘিরে। এই কারণে নানা ফর্মুলাও তৈরি হচ্ছে। 

বিএনপি, আন্তর্জাতিক মহল, জাতিসংঘ ও অন্যান্য সব দিক থেকে চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত কোন ফর্মুলা কাজে লাগবে সেটা সরকার প্রধান থেকে শুরু করে কেউ জানেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিনা এটা নিয়েও সরকারের ভেতরে সন্দেহ রয়েছে। তবে পরিবেশ পরিস্থিতি যাই হোক না কেন সরকার পুরো পরিস্থিতি সামাল দিয়ে যাতে টার্গেট পূরণ করতে পারেন সেটাই চাইছেন। এই জন্য সব পরিকল্পনাই চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সরকারের নীতি নির্ধারক একজন মন্ত্রী বলেন, সংবিধানে বর্ধমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। ওই বিধানের বলে শেখ হাসিনারই আগামী নির্বাচনে সরকার প্রধান। সেটা বিএনপি মানুক কিংবা না মানুক। নির্বাচনে আসুক কিংবা না আসুক। শেখ হাসিনা তার অধীনেই নির্বাচন করতে চান। এই জন্য সংবিধানেও কোন পরিবর্তন আনতে চাইছেন না। 

এদিকে সরকার সেই ফর্মুলা মেনেই বর্তমান বিধানে থাকতে চাইছে। তারপরও যদি কোন কারণে ওই বিধানের পরিবর্তন সমঝোতার খাতিরে আনতেও হয় সেখানেও হাইকোর্ট নতুন একটি দুয়ার খুলে দিয়েছে। সেখানে দুটি ফর্মুলাও দিয়েছেন হাইকোর্ট। সূত্র জানায়, হাইকোর্টের বেঞ্চ নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে ফর্মুলা দিয়েছেন তার উপর ভিত্তি করে সংবিধানে কোন পরিবর্তন আনবে না সরকার। আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের জন্য নতুন কোন ফর্মুলা অনুসরণ করা হবে না। সংবিধানে স্পষ্ট করেই বলা আছে কোন সরকারের অধিনে কেমন করে নির্বাচন হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও বর্তমান বিধানের আলোকেই হবে। এই বিধানে কোন পরিবর্তন আনার কোন সম্ভাবনা নেই। প্রধানমন্ত্রী এই বিধান বহাল রাখতে চান। 

এটর্নী জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, অনেক সময় আমাদের আদালতের বিচারপতিগণ সংশ্লিষ্ট কোন বিষয় কিংবা কাছাকাছি কোন বিষয় যদি আদালতে বিচারাধীন থাকে ওই বিষয়ে রায় দেওয়ার সময়ে অনেক বিচারপতিই তাদের মতামত দেন। কিন্তু সেটা মানতেই হবে এমন কোন বিধান নেই। চাইলে আবারও সেটা বিবেচনা করা যেতে পারে যদি কখনো প্রয়োজন হয়। সেটাতো এখন বলা যাবে না। এদিকে সরকার সংবিধানে বর্তমান বিধান বহাল রাখার সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেও নিবার্চনকালীন সরকার নিয়ে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে যে নতুন রূপরেখা দিয়েছেন তাতে বিএনপি তা পর্যালোচনা করছে। তবে সেটাতে সমাধান না হলেও এটা দিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হতে পারে। যেকোনো পদ্ধতি বা রূপরেখা, নির্বাচন কমিশন এবং নিবার্চনকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনা হওয়াটা জরুরি। সেক্ষেত্রে হাইকোর্ট যদি কোনো পরামর্শ দিয়ে থাকেন তবে সেটা বিবেচনা করা যেতে পারে। নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে বিএনপির নেতারা বলেন, যদি ইসিকে নিরপেক্ষ করা যেত তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান এমনিতেই হতে পারত। তবে সূত্র জানায়, কোন কারণে প্রয়োজন হলে ও বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা হলে নতুন করে যাতে কোন ফর্মুলা করতে হলে কোর্টের ফর্মুলা অনুসরণ করতে পারেন। 

এদিকে সরকার ফর্মুলা ছাড়াও বিএনপিকে দমন ও ঠেকানোর চেষ্টা এখনও বন্ধ রাখেনি। এটা অব্যাহত আছে। এই কারণে বিএনপি এখন অনেকটাই কোনঠাসা। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে ২০১৫ সালে এগুবেন ভেবেছিলেন ও পরিকল্পনা করেছিলেন সেইভাবে এগুতে পারছেন না। নভেম্বরের মধ্যে দল গুছিয়ে আন্দোলন এর জন্য প্রস্তুত হওয়া, এই ব্যাপারে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে পরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ, দলের নেতাদের দায়িত্ব আলাদা করে দেওয়া ও আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা পাওয়া এর কোনটি তার সময় মতো হচ্ছে না। তার ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের পরিকল্পনার কিছু কিছু আন্দাজ করতে পারছেন খালেদা জিয়া। এই জন্য ইতোমধ্যে তার পরিকল্পনায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন। আরো আনতে হবে বলে মনে করছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, আবার কবে নাগাদ আন্দোলন শুরু করা সম্ভব হবে সেটা এন বলা যাচ্ছে না। দল পুনর্গঠন করেই সময় ও সুযোগ বুঝে আন্দোলন। আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে এখনও তেমন কোন আশ্বাস মিলেনি। এই জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। 

সরকারের একজন নীতি নির্ধারক মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের বাইরে আমরা কোন কাজ করিনি সেটাও বোঝানোর চেষ্টাই করেছি। তারা বিষয়টি বুঝতে পারছেন বলে এখন কথা বলছেন না। তারা সেখানে গিয়ে সুবিধা করতে পারবে না। সূত্র জানায়, সরকার ও বিএনপির তরফ থেকে যোগাযোগ বাড়ানোর কারণে এখনও আন্তর্জাতিক মহল আগাম নির্বাচন চাইলেও তারা ঠিক কি ধরনের সিদ্ধান্ত দিবেন সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো কয়েকমাস। সূত্র জানায়, বিএনপিকে ঠেকাতেও পারলেও সরকার ও আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক মহলকে পুরোপুরি ম্যানেজ করতে পারছেন না। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন চৌদ্দ দলীয় জোট সরকার আগামী ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন থাকতে সরকার ব্যাপক উন্নয়নের কথা বলছে। নানা উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছে। এই অবস্থায় তারা উন্নয়ন কাজও শুরু করেছে। সেটা করলেও জনগণের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠ,ু নিরপেক্ষ নির্বাচনে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার আকাঙ্খা রয়েছে। সেই সঙ্গে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক শক্তির বিভিন্ন মহল থেকেও সরকারের উপর একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করার ব্যাপারে চাপ রয়েছে। 

সরকার ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর নানাভাবে আন্তর্জাতিক মহলকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছে, তবে এখনও তা পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনও তাদের মতো করেই সব দলের অংশগ্রহণে আগাম নির্বাচনের কথা বলে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে বর্তমান সরকার সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে চেষ্টা করলেও সেটা কাজে আসেনি। তারা সরকারের কথায় ম্যানেজ হচ্ছে না। নির্বাচন করার কথা বললেই যাচ্ছে। সেই সঙ্গে জাতিসংঘও একটি নির্বাচন চায়। এদিকে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যাতে আবারও ক্ষমতায় আসতে পারে সেটাও ঠিক করছে। এই জন্য বিএনপির অভিযোগ সরকার আঠারো বছরের কম বয়সীদের ভোটার করছে। আঠারো বছরের কম বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হলে ও তাদেরকে ভোটার করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাখা হলে তারা আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার উপযুক্ত হবেন। এই সরকারের আমলে তারা ভোটার হলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জোটের প্রতিই সমর্থন দিতে পারে। এই কারণে তারা আগামী নির্বাচনে ভোটের ফল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপি। সরকার দূরভিসন্ধি থেকেই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে এই কাজটি করাচ্ছে। বিএনপি চাইছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন যাতে এই কাজে সফল হতে না পারে।

No comments:

Post a Comment