Monday, July 27, 2015

সমুদ্র গুপ্ত : এক স্বপ্নচারী কবি

কবি সমুদ্র গুপ্ত ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কবিতা গল্প সাহিত্য সমালোচনা প্রবন্ধ নিবন্ধ সাহিত্যবিষয়ক বৈচিত্র্যময় রচনা লেখালেখি শুরু করেন। 

তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রোদ ঝলসানো মুখ’ ১৯৭৭-এ প্রকাশিত হয়। সমসাময়িককালে অন্যতম কবি হিসেবে তিনি পাঠক-লেখক মহলে পরিচিত হন। কবি সমুদ্র গুপ্তের ১৩টি কাব্যগ্রন্থ, একটি গদ্য, একাধিক সম্পাদিত ও অনুবাদগ্রন্থ ছাড়াও অনেক সৃজনশীল লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তার কবিতা ইংরেজি, ফরাসি, হিন্দি, সিংহলি, চীনা ও নেপালি ভাষায় অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে। তার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- রোদ ঝলসানো মুখ, ¯^প্নমঙ্গল কাব্য, চোখে চোখ রেখে, নদীও বাড়িতে ফেরে, শিকড়ের খোঁজে, একাকী রোদ্রের দিকে, ঘাসপাতার ছুরি, মাথা হয়ে গেছে পাখা শুধু ওড়ে, তাহলে উঠে দাঁড়াবো না কেন ইত্যাদি। এ ছাড়া প্রবন্ধ নিবন্ধ সমালোচনা গদ্য সব মিলিয়ে বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

সমুদ্র গুপ্ত ¯^াধীনতা-পূর্বকালে দৈনিক আওয়াজ থেকে শুরু করে দৈনিক সংবাদের খেলাঘর, দৈনিক আজদের মুকুলের মাহফিল, সাপ্তাহিক গণশক্তি, দৈনিক গণকণ্ঠসহ নানা পত্রপত্রিকায় ফিচার সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক ও সম্পাদক পদে যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশের বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সঙ্কটকালে সম্মুখে থেকে একজন নিষ্ঠ কর্মীর মতো সতত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন সংস্থায় অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে ¯ৈ^রাচারবিরোধী তীব্র আন্দোলনে গণতন্ত্রের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেন। তিনি নব্বই-এর আন্দোলনকালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

সমুদ্র গুপ্ত বিভিন্ন সময় পুরস্কার পেয়েছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পুরস্কার- হুমায়ুন কবীর স্মৃতি সাহিত্য, লেখক শিবির সাহিত্য, যশোর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কারসহ দেশের বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন। পেয়েছেন- ভারতের কবি বিষ্ণু দে সাহিত্য এবং ত্রিপুরা রাজ্যের সরকার প্রদত্ত ভাষা দিবস পুরস্কার যা আমাদের দেশের সম্মান বয়ে এনেছে। এককথায় কবি সমুদ্র গুপ্তের লেখা বাঙলা সাহিত্য ভাÊারকে সমৃদ্ধ করেছে। চলমান যান্ত্রিক সভ্যতার গ্যাঁড়াকলে পড়ে মানুষেরা যেখানে এক আশ্চর্যময় যান্ত্রিক জীবে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে, সেখানে একজন কবি সমুদ্র গুপ্ত মানুষের সত্তাকে ধারণ করে শিল্প সাহিত্য কবিতা নিরলসভাবে উর্বর জমিতে চাষ করে নিজেকে কবিতার দক্ষ চাষি হিসেবে তৈরি করেছিলেন। আর এখানেই একজন মানুষ এবং কবির মধ্যে দিব্য ঢের পার্থক্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

রাষ্ট্র ভিন্ন ভিন্নকালে মানুষকে ভয় দেখায়, ¯^াধীনভাবে কথা বলতে নিষেধ করে। কলমের কালিকে নির্দিষ্ট গÊির মধ্যে বেঁধে দেয়ার হুকুম জারি করে। রাষ্ট্র মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার গণতন্ত্র বাক¯^াধীনতাকে নির্মমভাবে গলাটিপে হত্যা করে। সরকারের হুমকি-ধমকিতে ভীত হরিণের মতো থরথর করে কাঁপতে হয়। এখানে একজন বড় সুদখোর ঘুষখোর দেশের অর্থসম্পদ লুণ্ঠনকারী দুর্নীতিবাজ মিথ্যাবাদীরা সমাদৃত হয়, সম্মান পায়, রাষ্ট্রের বড় বড় আসনে বসার সুযোগ পায় এবং অসতেরা জনপ্রিয় হয় তাদের ফুলের মালা দেয়া হয়। পক্ষান্তরে একজন কবি সাহিত্যিক সৃজনশীল মননশীল সমাজ সচেতন দেশপ্রেমিক সৎ মানুষেরা সব কিছু থেকে বঞ্চিত হয়। রাষ্ট্র তাদের জন্য কোনো স্থান সৃষ্টি করে রাখেনি।

বারবার ভালো মানুষগুলো আক্রান্ত হয়। রাষ্ট্র-সরকার ইচ্ছা করলে কবি সমুদ্র গুপ্তকে বাঁচানোর জন্য উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে অনেক অর্থ ব্যয় করতে পারত। কিন্তু তা হওয়ার নয়। যদি একটু ভালো উন্নত চিকিৎসা করা হতো হয়তো কবি এই সুন্দর পৃথিবীতে আরো কিছু দিন আলো বাতাস নিঃশ্বাস নিতে পারত। কবি সমুদ্র গুপ্ত নেই। রক্তে-মাংসে গড়া প্রিয় সেই শুভ্র কেশের অধিকারী মানুষটিকে আমরা আর কোনো দিন দেখতে পাব না। কিন্তু তিনি তার সাহিত্যকর্মের জন্য আমাদের মধ্যে যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন।

Sunday, July 19, 2015

‘ভারতে ২০১৪ সালে সাড়ে ৫ হাজার কৃষকের আত্মহত্যা’

ভারতে ২০১৪ সালে মোট ৫,৬৫০ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যাকারী কৃষকদের অধিকাংশই মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা ও ছত্তিশগড়ের।

দেশটির কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে এই সংখ্যা উঠে এসেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ন্যাশনাল ক্রইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি) প্রকাশিত ‘ভারতে ২০১৪ সালে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও আত্মহত্যা’ শীর্ক প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়েছে।

আত্মহত্যাকারী কৃষকদের মধ্যে ৫,১৭৮ জন পুরুষ ও ৪৭২ জন নারী।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৪ সালে আত্মহত্যাকারী মোট কৃষকের ৪৫.৫ ভাগই মহারাষ্ট্রের। প্রদেশটিতে ২,৫৬৮ জন কৃষক গেল বছর আত্মহত্যা করেছেন। তেলেঙ্গানায় আত্মহত্যা করেছেন ৮৯৮ জন, মধ্য প্রদেশে ৮২৬ জন কৃষক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

দেশটিতে আত্মহত্যাকারী নারী কৃষকদের মধ্যে ৩১.১ ভাগই তেলেঙ্গানা রাজ্যের। মধ্য প্রদেশে ২৯.২ শতাংশ এবং মহারাষ্ট্রে ১৪.১ শতাংশ।

ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ শোধ করতে না পারা এবং পারিবারিক কলহ এসব আত্মহত্যার ঘটনার অন্যতম কারণ।

পাশাপাশি ফলস নষ্ট হয়ে যাওয়া ও অসুস্থতার কারণেও অনেক কৃষক আত্মহত্যা করেছেন।

আত্মহত্যাকারী ৬৫.৭৫ ভাগের বয়সই ৩০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।

ভারতে ২০১৪ সালে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ জন ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। ২০১৪ সালে দেশটিতে মোট  ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৬ জন আত্মহত্যা করেছেন। এই সংখ্যা ২০১৩ সালে ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৯৯ জন।

অর্থাৎ ২০১৩ সালের চেয়ে ২০১৪ সালে আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা কমেছে।

দেশটিতে সবচে বেশি ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন মহারাষ্ট্রে। ২০১৪ সালে রাজ্যটিতে মোট ১৬ হাজার ৩০৭ জন আত্মহত্যা করেছেন। তামিলনাডুতে এই সংখ্যা ১৬ হাজার ১২২ জন এবং পশ্চিম বঙ্গে ১৪ হাজার ৩১০ জন।

Tuesday, July 14, 2015

আত্মহত্যার অনুমতি চায় ভারতের ৭ কৃষক

ভারতের ঋণগ্রস্ত সাত কৃষক আত্মহত্যা করতে প্রশাসনের ‘অনুমতি’র অপেক্ষায় রয়েছে। এই সাত কৃষকের মধ্যে তিন নারীও রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্রের ওয়ারধা জেলার ওয়াদাদ গ্রামে। কৃষকের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি বেসরকারি সংস্থা বিদর্ভ জন আন্দোলন সমিতির প্রেসিডেন্ট কিশোর তিওয়ারি বলেন, ‘পরিস্থিতি এতই খারাপ যে ওই সাত কৃষক তাদের জীবন শেষ করার অনুমতি পেতে জেলার কর্মকর্তাদের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা রয়েছে।’ তিনি জানান, মহারাষ্ট্র সরকারের প্রতিশ্রুত সাহায্য পেতে গত জানুয়ারি থেকে এই সাত কৃষক দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা হতাশ হয়ে আনুমানিক ১০ দিন আগে সরকারের স্থানীয় রাজস্ব কর্মকতার কাছে আত্মহত্যার করার জন্য ‘ছাড়পত্র’ চেয়ে চিঠি দেয় তারা। এরপর ওই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ‘আত্মহত্যার অনুমতিপত্রের’ প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পায় যা তারা রাজস্ব সংগ্রাহকের কার্যালয়ে জমা দেয় এবং সেখান থেকেও ওই চিঠি প্রাপ্তির স্বীকারপত্র পায় ওই কৃষকরা। তিনি আরো জানান, গত বছর শিলাবৃষ্টি, খরা ও বন্যায় তাদের ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ পেতে দেশটির সরকারের নিয়ম অনুসারে ওই সাত কৃষক জনপ্রতি চার হাজার টাকা পাওয়ার কথা।কিন্তু ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে ওই টাকা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে আছে।কিন্তু জেলা কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকায় ওই টাকা তারা তুলতে পারছে না। এই পরিস্থিতি তাদের এই ধরনের চিঠি লিখতে বাধ্য করছে। এই শুষ্ক মৌসুমে ইতোমধ্যে এই প্রদেশে ৭০ শতাংশ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। গত ১২ দিনের ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া