Friday, April 26, 2013

লাশগুলো শুধুই সংখ্যা


যে লাশগুলো দেখছি সেগুলো শুধুই সংখ্যা, যে হাত কাঁটা কিংবা পা কাঁটা পঙ্গুদেহগুলো শুধুই সংখ্যা। সংখ্যার পিছোনে সংখ্যাই থাকে যার জন্য সংখ্যা আমাদের কোন ক্রিয়া করেনা। শত শত স্বজন মারা গেল তারপরও আমরা সংখ্যা নিয়ে ব্যস্ত, এটা গত ঘটে যাওয়ার ধ্বংসের চাইতে বেশী সংখ্যার জীবনহানি ঘটেছে, রাষ্ট্র যায় সংখ্যা কম দেখাতে, সরকার বিরোধীরা চায় সংখ্যা বেশী দেখাতে মনে হয় সংখ্যা সংখ্যা খেলা।
সরকারের কাছে হত বা আহত এই সব সংখ্যা, পুজিঁলগ্নীকারীদের কাছে ক্ষতিপূরণের সংখ্যা, বিদেশী ক্রেতাদের কাছে দর কষাকষির উপযুক্ত হাতিয়ার এই সংখ্যা। যেমনটি আমাদের বলার জন্য বলি ৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ, মানে ৩০ লক্ষ টাই মূখ্য এর ভিতরে ত্যাগ, গ্লানী, মানসিক শক্তি কোন ব্যাপার নয়। ঠিক তেমনি আজ আমরা রানা প্লাজায় কতজন মারা গেছে সেটার সংখ্যা দিয়ে বিচার করছি।
একজন প্রধানমন্ত্রী তৈরী করতে ৩০০ সংখ্যা দিয়ে ১৫২ পাশ মার্ক দিয়ে বিবেচনা করছি, সেই ৩০০ রা আবার একেক জন্য হাজার লক্ষ দিয়ে ১ সংখ্যা তৈরী করেছে, প্রধান এক সংখ্যা কখনও ভাবেনা যে তার তৈরীর পিছোনে ৩০০ ও বাইরে কোটি লক্ষের মধ্যেও একটা সংখ্যা আছে যে সংখ্যাটার একটা জীবন আছে ঠিক তারই মত তার ও হারানোর বেদনা থাকতে পারে, তারও পেটে খাদ্যের প্রয়োজন, তারও স্বপ্ন আছে, সেও দেশ প্রকৃতি পৃথিবীকে ভালবাসে। একেকটা সংখ্যা মানের একেকটি পৃথিবীর মৃত্যু, যা ভেবে দেখিনা।
যখনই সংখ্যা দিয়ে বিচার করছি তখন সংখ্যা দিয়েই কথিত সমাধান হচ্ছে সংখ্যা দিয়ে। হয়তো মৃত্যের স্বজনদের রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে কিছু টাকা ( সংখ্যা) তুলে দেয়া হবে, আত্মীয় স্বজনরা নগদ টাকা পেয়ে বিপুল সংখ্যার টাকা পেয়ে সেই সংখ্যাকে ভুলে যাবে, হয়ত কারো ঘরে কিছুদিন ছবি টানা থাকবে, আর যারা আহত হবে তারাও সংখ্যা পাবে, সেই সংখ্যা পেয়ে হয়ত ভুলেই যাবে সেও সংখ্যায় গণিত হয়েছে।
টেলিভিশনে উত্তাপ্ত বাক্যে সংখ্যা দিয়ে বলবে গত সংখ্যা থেকে এই সংখ্যা বেশী কিন্তু আমরা চাইবো না আমরা শুধুই সংখ্যা নয়, আমদেরও স্বপ্ন আছে, আমরাও বাঁচতে চাই, প্রধান মন্ত্রী যাওয়ার পথে সকল রাস্তা খালি করা হয় যে নিরাপত্তরা জন্য ঠিক তেমনি না হলেও আমাদের সাধারনের নিরাপত্তাতো সেই একক ( প্রধানমন্ত্রী) সংখ্যারই করার কথা। নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র না কিনে মানুষের নিরাপত্তার জন্য দূযোর্গ সময়ে উদ্ধার সরঞ্জাম বেশী প্রয়োজন। আর এটা আমার বুঝলে হবেনা বুঝতে হবে একক সংখ্যাকে।

Sunday, April 21, 2013

স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে


থ্রি ইডিয়টস চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে চেতন ভগতের উপন্যাস অবলম্বনে। চেতন ভগত সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক। জন্ম ভারতের নয়াদিল্লিতে, ১৯৭৪ সালের ২২ এপ্রিল। বই লেখার পাশাপাশি তরুণদের জন্য উৎসাহমূলক বক্তৃতা করেন তিনি। চেতন ভগত ২০০৮ সালের ২১ নভেম্বর দিল্লিতে হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিটে এই বক্তৃতা দেন।

আমি নেতা নই। আমি একজন স্বপ্নচারী মানুষ যে ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করে স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে জানে। আজ আমি বলতে এসেছি কীভাবে দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা জাতির স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি।

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আগে আমাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। ভেবে দেখো, সবাই সুখী, ধনী আর সফল প্রতিবেশীর সঙ্গেই বন্ধুত্ব করতে চায়, তাই না? যে পরিবারে সব সময় দ্বন্দ্ব আর ঝগড়া লেগেই থাকে, তাদেরকে সবাই এড়িয়ে চলে। জাতির ক্ষেত্রেও ঠিক একই নীতি প্রযোজ্য। আমাদের মধ্যে অসংখ্য সমস্যা আর বিভেদ। তবে আজ আমাদের প্রশ্ন এটা নয় যে এই সমস্যার দায় কার। আমাদের প্রশ্ন, কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা হবে?
এমন দেশ গড়তে হবে যেখানে সবাই নিজের যোগ্যতা, উদ্যম আর পরিশ্রম দিয়ে উন্নতি করতে পারবে। যেখানে কেউ জিজ্ঞেস করবে না, তুমি কোথা থেকে এসেছ, সবাই জানতে চাইবে, তুমি কোথায় যচ্ছে। আমরা সবাই এমন দেশের স্বপ্ন দেখি।
এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে অনেক কিছু করতে হবে এবং রাজনীতিবিদদের দোষ দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। আমি মনে করি, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের চিন্তাধারা অবশ্যই বদলাতে হবে, শুধু জনগণ নয়, নেতাদেরও একই কাজ করতে হবে। এগুলো হলো, ভেদাভেদের রাজনীতির বদলে ঐকমত্যের রাজনীতির প্রচলন করা, আভিজাত্যের খোলস ছেড়ে জনতার কাতারে মিশে যাওয়া এবং ব্যবহারিক ইংরেজির চর্চা করা।
প্রথমে রাজনীতির কথায় আসি। আমি পাঁচ বছর ধরে ভারতের তরুণদের পর্যবেক্ষণ করছি। শুধু বড় শহরগুলোতে নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে তাদের গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করেছি। আমাদের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশজুড়ে আছেন এই তরুণেরা, এঁরাই প্রকৃত ভোটব্যাংক। কিন্তু রাজনীতিবিদদের ভাষণে তরুণদের স্বপ্ন প্রতিফলিত হয় না। নেতারা এখন পুরোনো আমলের দেশপ্রেমের বুলি কপচান আর ধর্ম-বর্ণ ইত্যাদি সংস্কারের মাহাত্ম্য প্রচার করেন। কিন্তু তরুণেরা আসলে কী চান? তাঁরা চান ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে, ভালো চাকরি করতে, নিজেদের সামনে আদর্শ হিসেবে অনুকরণীয় কাউকে পেতে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্থান করে দেওয়ার মতো এত আসন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেই, চাকরির ক্ষেত্রেও তাই। তরুণদের সবচেয়ে বড় একতা এখানেই যে তাঁরা সবাই দেশকে এগিয়ে নিতে চান, উন্নতি করতে চান। তরুণদের এই স্বপ্ন পূরণের জন্য অবকাঠামো প্রয়োজন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রয়োজন। এসব অর্জন করা মোটেই সহজ নয়, কিন্তু আমাদের মধ্যে একতা গড়ে তোলার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি দৃঢ় কিন্তু নিরপেক্ষ কণ্ঠের খুব প্রয়োজন। কেউ যখন কোনো ছুতোয় আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাইবে, তখন সেই বিভেদ সৃষ্টিকারীর দলের কাউকেই জোর গলায় এর প্রতিবাদ করে তার অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে। কেউ যদি বলে যারা মারাঠি নয়, তাদের আক্রমণ করা উচিত, তাহলে মারাঠিদের মধ্য থেকেই এই আগ্রাসী আহ্বানের প্রতিবাদ করতে হবে। জাতির বিবেকরূপী কণ্ঠস্বরই পারে সবাইকে দেশের স্বার্থে একত্র করতে। তরুণ প্রজন্মও তাই চায়।
দ্বিতীয়ত, আমাদের ঠুনকো আভিজাত্যের অহংকারে মাটিতে পা না ফেলার অভ্যাসটা একটু বদলাতে হবে। যখনই কেউ একটু সফল, একটু বেশি শিক্ষিত, ধনী, বিখ্যাত, মেধাবী কিংবা সংস্কৃতিমনা হয়ে ওঠে, সে নিজেকে খুব একটা কেউকেটা ভাবা শুরু করে। নিজেকে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে আলাদা করে এমন লোকদের সঙ্গে মেলামেশা করা শুরু করে, যারা সাধারণ মানুষকে মানুষ বলেই মানতে নারাজ। বায়বীয় বুদ্বুদে বুদ্ধিজীবী পরিবেষ্টিত হয়ে থাকতে ভালো লাগে মানি, কিন্তু এই বুদ্ধির উপযোগিতা কোথায়?
টিভি খুললে শতকরা ৭০ ভাগ সময় দিল্লি, মুম্বাই কিংবা বেঙ্গালুরুর খবর দেখতে পাই, কিন্তু শুধু এই তিনটি শহর নিয়েই ভারত নয়। ভারতের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ এসব শহরে থাকে না। তাদের খবর যদি গণমাধ্যমে যথাযথভাবে প্রচার করা না হয়, দেশ কীভাবে এগিয়ে যাবে? আমি মানবিক দিক বিবেচনা করে এসব করতে বলছি না। দেশে ব্যবসা করতে হলেও জনগণকে জানতে হবে, তাদের চাহিদা বুঝতে হবে। এতে মানসম্মান নষ্ট হয় না। আমার বই রেলস্টেশনে, শহরের অলিগলিতে বিক্রি হয়। এতে তো পাঠকের চোখে আমি সস্তা হয়ে যাই না। শুধু মুম্বাইয়ের র‌্যাম্পে হেঁটে চলা মডেলরা কী পরেছে, তা নয়, ইন্দোর আর রায়পুরের রাস্তায় হেঁটে চলা মানুষেরা কী ভাবছে, তা-ও জানতে হবে। মেকি আভিজাত্য না দেখিয়ে খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে হবে। শুধু অপসংস্কৃতির ধুয়ো তুলে গালিগালাজ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।
সবশেষে আমি বলতে চাই, ইংরেজি শেখার ব্যাপারে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই আর পরীক্ষার খাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে, ইংরেজি শিক্ষা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমি একজন গ্রামের ছেলেকে হিন্দিতে জ্যামিতি বা পদার্থবিদ্যা শেখাতে পারি, কিন্তু সে যখন চাকরি খুঁজতে যাবে, তখন সেটা তার খুব একটা কাজে লাগবে না। কিন্তু ইংরেজি তাকে একটা ভালো চাকরি পেতে সাহায্য করবে। ইংরেজির প্রসার ঘটিয়ে আমরা যদি দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারি, তাহলে আমরা সংস্কৃতি রক্ষার জন্য অনেক উদ্যোগ নিতে পারব, কিন্তু অসংখ্য মানুষকে বেকার কিংবা ক্ষুধার্ত রেখে আর যা-ই হোক, সংস্কৃতি রক্ষার কথা ভাবা যায় না।
এসব শুধু বক্তৃতা করার জন্য বলা নয়, আমাদের নিজেদের অবস্থান থেকেই আমরা কোনো না কোনোভাবে এই কাজগুলো করতে পারি। অন্তত বন্ধুদের আড্ডাতেই না-হয় সবাই কিছুক্ষণ এটা নিয়ে কথা বললেন। যদি আরও কোনো উপায়ে এই ধারণাগুলো দশজনের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারেন, তবে তা-ই করুন। আজ আমরা এখানে বসে চমৎকার বক্তৃতা শুনছি, এর অর্থ হচ্ছে আমাদের অনেক কিছু আছে, যা এ দেশের কোটি কোটি মানুষের নেই। দেশের কাছ থেকে তো অনেক কিছুই নিলাম, আসুন, এবার ভেবে দেখি, দেশকে আমরা কী দিতে পারি।

চেতন ভগত


সূত্র: ওয়েবসাইট, ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ: অঞ্জলি সরকার

Friday, April 19, 2013

পয়লা বৈশাখের কথা

 বাংলা সনের মূল নাম ছিলো তারিখ-এ-এলাহী। মোগল সম্রাট আকবর ১৫৮৫ সালে তার রাজত্বকালের ২৯তম বর্ষের ১০ কিংবা ১১ মার্চ তারিখে এক ডিক্রি জারির মাধ্যমে তারিখ-এ-এলাহী প্রবর্তন করেন। সিংহাসনে আরোহণের পরপরই তিনি একটি বৈজ্ঞানিক, কর্মোপযোগী এবং গ্রহণযোগ্য বর্ষপঞ্জী প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন, যেখানে দিন ও মাসের হিসাবটা যথাযথ থাকবে। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তিনি তৎকালীন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদ আমীর ফতুল¬াহ শিরাজীকে নতুন বর্ষপঞ্জী তৈরির দায়িত্ব প্রদান করেন। বিখ্যাত প-িত ও সম্রাট আকবরের মন্ত্রী আবুল ফজল এ সম্বন্ধে ব্যাখ্যা প্রদান করেন যে, হিজরী বর্ষপঞ্জী কৃষিকাজের জন্য মোটেই উপযোগী ছিলো না কারণ চন্দ্র বছরের ৩১ বছর হয় সৌর বছরের ৩০ বছরের সমান। চন্দ্র বছরের হিসাবেই তখন কৃষকশ্রেণীর কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করা হতো অথচ চাষবাস নির্ভর করতো সৌর বছরের হিসাবের উপর। চন্দ্র বছর হয় ৩৫৪ দিনে। সেখানে সৌর বছর ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিনে। ফলে দুটি বর্ষপঞ্জীর মধ্যে ব্যবধান থেকে যায় বছরে ১১ বা ১২ দিন। বাংলা সনের জন্ম ঘটে সম্রাট আকবরের এই রাজস্ব আদায়ের আধুনিকীকরণের প্রেক্ষাপটে।

তারিখ-এ-এলাহীর বারো মাসের নাম ছিলো কারবাদিন, আর্দি, বিসুয়া, কোর্দাদ, তীর, আমার্দাদ, শাহরিয়ার, আবান, আজুর, বাহাম ও ইস্কান্দার মিজ। কারো পক্ষে আসলে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় কখন এবং কিভাবে এসব নাম পরিবর্তিত হয়ে বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র হয়। অনুমান করা হয়, বারোটি নক্ষত্রের নাম নিয়ে পরবর্তীতে নামকরণ করা হয় বাংলা মাসের। বিশাখা নক্ষত্র থেকে বৈশাখ, জায়ীস্থা থেকে জ্যৈষ্ঠ, শার থেকে আষাঢ়, শ্রাবণী থেকে শ্রাবণ, ভদ্রপদ থেকে ভাদ্র, আশ্বায়িনী থেকে আশ্বিন, কার্তিকা থেকে কার্তিক, আগ্রায়হন থেকে অগ্রহায়ণ, পউস্যা থেকে পৌষ, ফাল্গুনী থেকে ফাল্গুন এবং চিত্রা নক্ষত্র থেকে চৈত্র।

পয়লা বৈশাখ বা বাংলা নতুন বছর উদযাপন প্রথাটাও কিন্তু আকবরেরই তৈরি। আকবরের সময়ে তার প্রবর্তিত ১৪টি উৎসব পালিত হতো মহাসমারোহে। তার মধ্যে একটি ছিলো নওরোজ বা নববর্ষ উৎসব। মজার ব্যাপার হলো, এই নওরোজ বা নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানেই রাজপুত্র সেলিম (পরে সম্রাট জাহাঙ্গীর) মেহেরুন্নেছার (ইতিহাসে নূরজাহাজ নামে খ্যাত) প্রেমে পড়েন। এরকম আরেকটি নববর্ষের উৎসবে রাজপুত্র খুররম ( পরে সম্রাট শাহজাহান) খুঁজে পান তার জীবনসঙ্গিনী মমতাজ মহলকে, যার জন্যে তিনি নির্মাণ করেন জগদ্বিখ্যাত তাজমহল। যদি এই নববর্ষ উৎসব না থাকতো, তাহলে আমরা হয়তো নূরজাহানকেও পেতাম না, বিশ্বের বিস্ময় তাজমহলও পেতাম না।


ভোট দেয়া এটি রাষ্ট্রিয় ভুল


আমাদের সামনে দুটি পথ দৃশ্যমান হয়ে আছে বেশ কিছুদিন যাবত, এক, রাজনৈতিক সৈরতন্ত্র, দুই, সামরিক সৈরতস্ত্র। মানুষের আর কোন পথ খোলা নেই এই দুটো অবস্থা ব্যতীত। তাই বার বার মানুষ সেই দিকেই গেছে আর বার বার প্রতারিত হয়েছে, মানুষ তার ভেতরকার ক্ষমতা কাছে লাগাবার উপায় বেড় করতে পারেনি, সেই জন্য সাধারণ মানুষের উপর দায় বর্তায় আর সেই দায় নিয়ে মানুষ তার জীবনযাপনে অভ্যাস্ত হয়ে পড়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এর থেকে কি বেড় হবার কোন পথ নেই ? আমাদের লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে, মানুষ আশা বেধেঁছে এই ভেবে যে, নতুন পতাকা নতুন রাষ্ট্র নিজের লোক দ্বারা শাসিত হবে দেশ তাই সকল গ্লানী মুছে নতুনের স্বপ্ন দেখলো মানুষ। সাধারণ মানুষ অত গভীর রাজনীতি বোঝেনা তাই বুঝে উঠতে পারেনি দেশ পাকিস্তানের খপ্পর থেকে ভারতের খপ্পরে পড়েছে, অনেক শিক্ষিত লোক এই স্বাধীনতাকে বেহাত বিপ্লব বলেছে, মানুষ তখনও বুঝে উঠেনি বেহাত বিপ্লবটা কি। সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছে দেশ রক্ষা করার জন্য দেশের আগামী সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য রক্ত দিয়েছে তাই তাদের মাথায় বেহাত বিপ্লবের কথা মাথায় আসেনি।  কষ্ট করে দেশ স্বাধীন হয়েছে তা বেহাত হবে তা কখনও কল্পনা করেনি। কিন্তু যারা দেশ স্বাধীন করার দায়িত্বে নিয়েছিলেন তারা এই বেহাত হওয়া থেকে দেশ থেকে উদ্ধার করতে পারেনি।
তেমনি পটপরির্বতন ঘটল একাধিকবার কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি বরঞ্চ আরো খারাপের দিকে গেছে দিনের পর দিন। নানান অবস্থায় পটপরিবর্তনের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তা মূলত গোষ্ঠি ভিক্তিক অর্থনৈতিক লুটপাটের জন্য, এতে সাধারনের অংশগ্রহন থাকলেও সাধারণ মানুষ সেই সকল লুটেরাদের হয়ে কাজ করেছে মাত্র। মজার ব্যাপার হলো এই সবই হয়েছে গণতন্ত্রের নামে।
আসলে গণতন্ত্রটা কি বাংলাদেশের মানুষের কাছে কোন আদর্শিক উদাহরন ছিলোনা তাই বোধ হয় মানুষ এই বিকৃত গনতন্ত্রের পিছোনে ছুটেছে বার বার, ৯০ সালের আন্দোলনকে মানুষ তার নিজের আন্দোলন মনে করেছে। তাই মানুষ ভেবেছে এবার বুঝি দেশের স্বাধীনতার ফসল ঘরে তুলতে পারবে, একটা ভোটের ব্যবস্থা হয়েছে যা মানুষ তার মতামত টা জানান দিতে পারে, কিন্তু মানুষ এটা ভাবেনি এরশাদের সৈরতন্ত্রের চেয়ে খালেদা হাসিনার গণতন্ত্র কোন অবস্থায়ই ভিন্ন নয়। দেশের যে চেহারা ছিলো তাই আছে লুটেরা গোষ্টিগত পরিবর্তন হয়েছে কবছর জাতীয়তাবাদী গোষ্টি লুটপাট করার জন্য লাইসেন্স পায় আবার ক‘বছর আওয়ামী গোষ্টি লুটপাট করার লাইসেন্স পায়। এর বাহিরে জনমানুষের কোন সিকি ভাগ কল্যাণ সাধিত হয়নি গণতন্ত্রী লেবাসী রাজনৈতিক গোষ্টি দ্বারা।
এখন আবার মানুষ নানান খেলা দেখছে, সাধারণের জীবন অতিষ্ট, খেটে খাওয়া মানুষের কাজ নেই, সাধারণ চাকুরেরা ধার দেনায় র্জজরিত। দুই গোষ্টি মজার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য মরিয়া, মূলত যার যারমত গণতন্ত্র প্যাকেজ বাস্তবায়নের নানান খোয়াব দেখায় আমাদের আর সেই সাথে তাদের স্বার্থের প্রতি আমাদের আকৃষ্ট করার নানান মানবিক খেলায় মেতে উঠে তাই মানুষের সমর্থনের পরিবর্তন ঘটে।
দুই গোষ্টি গণতন্ত্রের নামে যা করে তার উপযুক্ত মঞ্চ হচ্ছে জাতীয় সংসদ, কার্ল মার্কসের ভাষায় (শুয়োরের খোয়ার) যে যেভাবেই বলুন না কেন কার্ল মার্কসের এই কথাটি আমাদের জাতীয় সংসদের জন্য হাজার ভাগ সত্য। গত ৯১ থেকে আজবোধী আমাদের জাতীয় সংসদের জন কল্যানের উল্লেখযোগ্য কোন অবদানের কথা হলফ করে বলা যাবে যে সেই সংসদটি কল্যাণকর ছিলো, সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিই উন্নয়নে যথেষ্ট ভুমিকা রেখেছে কিংবা সেই সংসদ আমাদের জন্য এমন কিছু করেছে যে মানুষের খাবারের জন্য রাস্তায হাত পাততে হয়না। এমন কোন কিছুই ঘটেনি। আমরা দেখেছি এক গোষ্টি অন্য গোষ্টিকে গালাগাল দেয়ার জন্য জাতীয় সংসদকে উপযুক্ত স্থান হিসেব নিয়েছে আর গোষ্টির স্বার্থ রক্ষার জন্য নতুন নতুন আইন (ফন্দি) তৈরী করেছে যার সাথে সাধারণের ভাগ্যন্নয়নে কোন ভুমিকা নেই।
একজন সংসদ সদস্য হতে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন পরে সেই জন্য সুবিধাভূগী ব্যবসায়ী গোষ্টি এখন সংসদ সদস্যের সিংহভাগ স্থান দখলে।
নতুন আরেকটি কালচার দাড়িয়েছে সংসদ বর্জন, দুই গোষ্টি কি কারণে সংসদ বর্জন করেন তার উপযুক্ত কোন কারণ নেই অথচ বিগত তেইশ বছর ধরে এটা সংসদীয় কালচারে রূপান্তর হয়েছে, এই বর্জনের জন্য কোন জবাবদেহী করতে হয়না বলেই আজ সংসদের গুরুত্ব মানুষের কাছে নেই বললেই চলে।
তবে আমরা সাধারণ মানুষ কেন তাদের বর্জন করিনা, আর কতদিন এভাবে সহ্য করবো। নতুনর কেতন উড়ার জন্য যদি আমরা আবারও ভোটের দিন সেই ভুলটি (ভোট দেয়া এটি রাষ্ট্রিয় ভুল) করি তাহলে আমরা আর কোনদিন ফিরতে পারবোনা। এখনই আওয়াজ উঠাই তোমাদের ভোটে আমরা অংশ নিব না। আমরা আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনর  জন্য অবশ্যই একটি কিছু করবো তবে ভোট দেব না।