Friday, April 19, 2013

ভোট দেয়া এটি রাষ্ট্রিয় ভুল


আমাদের সামনে দুটি পথ দৃশ্যমান হয়ে আছে বেশ কিছুদিন যাবত, এক, রাজনৈতিক সৈরতন্ত্র, দুই, সামরিক সৈরতস্ত্র। মানুষের আর কোন পথ খোলা নেই এই দুটো অবস্থা ব্যতীত। তাই বার বার মানুষ সেই দিকেই গেছে আর বার বার প্রতারিত হয়েছে, মানুষ তার ভেতরকার ক্ষমতা কাছে লাগাবার উপায় বেড় করতে পারেনি, সেই জন্য সাধারণ মানুষের উপর দায় বর্তায় আর সেই দায় নিয়ে মানুষ তার জীবনযাপনে অভ্যাস্ত হয়ে পড়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এর থেকে কি বেড় হবার কোন পথ নেই ? আমাদের লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে, মানুষ আশা বেধেঁছে এই ভেবে যে, নতুন পতাকা নতুন রাষ্ট্র নিজের লোক দ্বারা শাসিত হবে দেশ তাই সকল গ্লানী মুছে নতুনের স্বপ্ন দেখলো মানুষ। সাধারণ মানুষ অত গভীর রাজনীতি বোঝেনা তাই বুঝে উঠতে পারেনি দেশ পাকিস্তানের খপ্পর থেকে ভারতের খপ্পরে পড়েছে, অনেক শিক্ষিত লোক এই স্বাধীনতাকে বেহাত বিপ্লব বলেছে, মানুষ তখনও বুঝে উঠেনি বেহাত বিপ্লবটা কি। সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছে দেশ রক্ষা করার জন্য দেশের আগামী সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য রক্ত দিয়েছে তাই তাদের মাথায় বেহাত বিপ্লবের কথা মাথায় আসেনি।  কষ্ট করে দেশ স্বাধীন হয়েছে তা বেহাত হবে তা কখনও কল্পনা করেনি। কিন্তু যারা দেশ স্বাধীন করার দায়িত্বে নিয়েছিলেন তারা এই বেহাত হওয়া থেকে দেশ থেকে উদ্ধার করতে পারেনি।
তেমনি পটপরির্বতন ঘটল একাধিকবার কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি বরঞ্চ আরো খারাপের দিকে গেছে দিনের পর দিন। নানান অবস্থায় পটপরিবর্তনের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তা মূলত গোষ্ঠি ভিক্তিক অর্থনৈতিক লুটপাটের জন্য, এতে সাধারনের অংশগ্রহন থাকলেও সাধারণ মানুষ সেই সকল লুটেরাদের হয়ে কাজ করেছে মাত্র। মজার ব্যাপার হলো এই সবই হয়েছে গণতন্ত্রের নামে।
আসলে গণতন্ত্রটা কি বাংলাদেশের মানুষের কাছে কোন আদর্শিক উদাহরন ছিলোনা তাই বোধ হয় মানুষ এই বিকৃত গনতন্ত্রের পিছোনে ছুটেছে বার বার, ৯০ সালের আন্দোলনকে মানুষ তার নিজের আন্দোলন মনে করেছে। তাই মানুষ ভেবেছে এবার বুঝি দেশের স্বাধীনতার ফসল ঘরে তুলতে পারবে, একটা ভোটের ব্যবস্থা হয়েছে যা মানুষ তার মতামত টা জানান দিতে পারে, কিন্তু মানুষ এটা ভাবেনি এরশাদের সৈরতন্ত্রের চেয়ে খালেদা হাসিনার গণতন্ত্র কোন অবস্থায়ই ভিন্ন নয়। দেশের যে চেহারা ছিলো তাই আছে লুটেরা গোষ্টিগত পরিবর্তন হয়েছে কবছর জাতীয়তাবাদী গোষ্টি লুটপাট করার জন্য লাইসেন্স পায় আবার ক‘বছর আওয়ামী গোষ্টি লুটপাট করার লাইসেন্স পায়। এর বাহিরে জনমানুষের কোন সিকি ভাগ কল্যাণ সাধিত হয়নি গণতন্ত্রী লেবাসী রাজনৈতিক গোষ্টি দ্বারা।
এখন আবার মানুষ নানান খেলা দেখছে, সাধারণের জীবন অতিষ্ট, খেটে খাওয়া মানুষের কাজ নেই, সাধারণ চাকুরেরা ধার দেনায় র্জজরিত। দুই গোষ্টি মজার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য মরিয়া, মূলত যার যারমত গণতন্ত্র প্যাকেজ বাস্তবায়নের নানান খোয়াব দেখায় আমাদের আর সেই সাথে তাদের স্বার্থের প্রতি আমাদের আকৃষ্ট করার নানান মানবিক খেলায় মেতে উঠে তাই মানুষের সমর্থনের পরিবর্তন ঘটে।
দুই গোষ্টি গণতন্ত্রের নামে যা করে তার উপযুক্ত মঞ্চ হচ্ছে জাতীয় সংসদ, কার্ল মার্কসের ভাষায় (শুয়োরের খোয়ার) যে যেভাবেই বলুন না কেন কার্ল মার্কসের এই কথাটি আমাদের জাতীয় সংসদের জন্য হাজার ভাগ সত্য। গত ৯১ থেকে আজবোধী আমাদের জাতীয় সংসদের জন কল্যানের উল্লেখযোগ্য কোন অবদানের কথা হলফ করে বলা যাবে যে সেই সংসদটি কল্যাণকর ছিলো, সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিই উন্নয়নে যথেষ্ট ভুমিকা রেখেছে কিংবা সেই সংসদ আমাদের জন্য এমন কিছু করেছে যে মানুষের খাবারের জন্য রাস্তায হাত পাততে হয়না। এমন কোন কিছুই ঘটেনি। আমরা দেখেছি এক গোষ্টি অন্য গোষ্টিকে গালাগাল দেয়ার জন্য জাতীয় সংসদকে উপযুক্ত স্থান হিসেব নিয়েছে আর গোষ্টির স্বার্থ রক্ষার জন্য নতুন নতুন আইন (ফন্দি) তৈরী করেছে যার সাথে সাধারণের ভাগ্যন্নয়নে কোন ভুমিকা নেই।
একজন সংসদ সদস্য হতে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন পরে সেই জন্য সুবিধাভূগী ব্যবসায়ী গোষ্টি এখন সংসদ সদস্যের সিংহভাগ স্থান দখলে।
নতুন আরেকটি কালচার দাড়িয়েছে সংসদ বর্জন, দুই গোষ্টি কি কারণে সংসদ বর্জন করেন তার উপযুক্ত কোন কারণ নেই অথচ বিগত তেইশ বছর ধরে এটা সংসদীয় কালচারে রূপান্তর হয়েছে, এই বর্জনের জন্য কোন জবাবদেহী করতে হয়না বলেই আজ সংসদের গুরুত্ব মানুষের কাছে নেই বললেই চলে।
তবে আমরা সাধারণ মানুষ কেন তাদের বর্জন করিনা, আর কতদিন এভাবে সহ্য করবো। নতুনর কেতন উড়ার জন্য যদি আমরা আবারও ভোটের দিন সেই ভুলটি (ভোট দেয়া এটি রাষ্ট্রিয় ভুল) করি তাহলে আমরা আর কোনদিন ফিরতে পারবোনা। এখনই আওয়াজ উঠাই তোমাদের ভোটে আমরা অংশ নিব না। আমরা আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনর  জন্য অবশ্যই একটি কিছু করবো তবে ভোট দেব না।

No comments:

Post a Comment