বাংলা
সনের মূল নাম ছিলো তারিখ-এ-এলাহী। মোগল সম্রাট আকবর ১৫৮৫ সালে তার
রাজত্বকালের ২৯তম বর্ষের ১০ কিংবা ১১ মার্চ তারিখে এক ডিক্রি জারির মাধ্যমে
তারিখ-এ-এলাহী প্রবর্তন করেন। সিংহাসনে আরোহণের পরপরই তিনি একটি
বৈজ্ঞানিক, কর্মোপযোগী এবং গ্রহণযোগ্য বর্ষপঞ্জী প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা
উপলব্ধি করেন, যেখানে দিন ও মাসের হিসাবটা যথাযথ থাকবে। এ উদ্দেশ্যকে সামনে
রেখে তিনি তৎকালীন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদ আমীর ফতুল¬াহ শিরাজীকে
নতুন বর্ষপঞ্জী তৈরির দায়িত্ব প্রদান করেন। বিখ্যাত প-িত ও সম্রাট আকবরের
মন্ত্রী আবুল ফজল এ সম্বন্ধে ব্যাখ্যা প্রদান করেন যে, হিজরী বর্ষপঞ্জী
কৃষিকাজের জন্য মোটেই উপযোগী ছিলো না কারণ চন্দ্র বছরের ৩১ বছর হয় সৌর
বছরের ৩০ বছরের সমান। চন্দ্র বছরের হিসাবেই তখন কৃষকশ্রেণীর কাছ থেকে
রাজস্ব আদায় করা হতো অথচ চাষবাস নির্ভর করতো সৌর বছরের হিসাবের উপর।
চন্দ্র বছর হয় ৩৫৪ দিনে। সেখানে সৌর বছর ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিনে। ফলে দুটি
বর্ষপঞ্জীর মধ্যে ব্যবধান থেকে যায় বছরে ১১ বা ১২ দিন। বাংলা সনের জন্ম
ঘটে সম্রাট আকবরের এই রাজস্ব আদায়ের আধুনিকীকরণের প্রেক্ষাপটে।
তারিখ-এ-এলাহীর বারো মাসের নাম ছিলো কারবাদিন, আর্দি, বিসুয়া, কোর্দাদ, তীর, আমার্দাদ, শাহরিয়ার, আবান, আজুর, বাহাম ও ইস্কান্দার মিজ। কারো পক্ষে আসলে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় কখন এবং কিভাবে এসব নাম পরিবর্তিত হয়ে বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র হয়। অনুমান করা হয়, বারোটি নক্ষত্রের নাম নিয়ে পরবর্তীতে নামকরণ করা হয় বাংলা মাসের। বিশাখা নক্ষত্র থেকে বৈশাখ, জায়ীস্থা থেকে জ্যৈষ্ঠ, শার থেকে আষাঢ়, শ্রাবণী থেকে শ্রাবণ, ভদ্রপদ থেকে ভাদ্র, আশ্বায়িনী থেকে আশ্বিন, কার্তিকা থেকে কার্তিক, আগ্রায়হন থেকে অগ্রহায়ণ, পউস্যা থেকে পৌষ, ফাল্গুনী থেকে ফাল্গুন এবং চিত্রা নক্ষত্র থেকে চৈত্র।
পয়লা বৈশাখ বা বাংলা নতুন বছর উদযাপন প্রথাটাও কিন্তু আকবরেরই তৈরি। আকবরের সময়ে তার প্রবর্তিত ১৪টি উৎসব পালিত হতো মহাসমারোহে। তার মধ্যে একটি ছিলো নওরোজ বা নববর্ষ উৎসব। মজার ব্যাপার হলো, এই নওরোজ বা নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানেই রাজপুত্র সেলিম (পরে সম্রাট জাহাঙ্গীর) মেহেরুন্নেছার (ইতিহাসে নূরজাহাজ নামে খ্যাত) প্রেমে পড়েন। এরকম আরেকটি নববর্ষের উৎসবে রাজপুত্র খুররম ( পরে সম্রাট শাহজাহান) খুঁজে পান তার জীবনসঙ্গিনী মমতাজ মহলকে, যার জন্যে তিনি নির্মাণ করেন জগদ্বিখ্যাত তাজমহল। যদি এই নববর্ষ উৎসব না থাকতো, তাহলে আমরা হয়তো নূরজাহানকেও পেতাম না, বিশ্বের বিস্ময় তাজমহলও পেতাম না।
তারিখ-এ-এলাহীর বারো মাসের নাম ছিলো কারবাদিন, আর্দি, বিসুয়া, কোর্দাদ, তীর, আমার্দাদ, শাহরিয়ার, আবান, আজুর, বাহাম ও ইস্কান্দার মিজ। কারো পক্ষে আসলে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় কখন এবং কিভাবে এসব নাম পরিবর্তিত হয়ে বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র হয়। অনুমান করা হয়, বারোটি নক্ষত্রের নাম নিয়ে পরবর্তীতে নামকরণ করা হয় বাংলা মাসের। বিশাখা নক্ষত্র থেকে বৈশাখ, জায়ীস্থা থেকে জ্যৈষ্ঠ, শার থেকে আষাঢ়, শ্রাবণী থেকে শ্রাবণ, ভদ্রপদ থেকে ভাদ্র, আশ্বায়িনী থেকে আশ্বিন, কার্তিকা থেকে কার্তিক, আগ্রায়হন থেকে অগ্রহায়ণ, পউস্যা থেকে পৌষ, ফাল্গুনী থেকে ফাল্গুন এবং চিত্রা নক্ষত্র থেকে চৈত্র।
পয়লা বৈশাখ বা বাংলা নতুন বছর উদযাপন প্রথাটাও কিন্তু আকবরেরই তৈরি। আকবরের সময়ে তার প্রবর্তিত ১৪টি উৎসব পালিত হতো মহাসমারোহে। তার মধ্যে একটি ছিলো নওরোজ বা নববর্ষ উৎসব। মজার ব্যাপার হলো, এই নওরোজ বা নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানেই রাজপুত্র সেলিম (পরে সম্রাট জাহাঙ্গীর) মেহেরুন্নেছার (ইতিহাসে নূরজাহাজ নামে খ্যাত) প্রেমে পড়েন। এরকম আরেকটি নববর্ষের উৎসবে রাজপুত্র খুররম ( পরে সম্রাট শাহজাহান) খুঁজে পান তার জীবনসঙ্গিনী মমতাজ মহলকে, যার জন্যে তিনি নির্মাণ করেন জগদ্বিখ্যাত তাজমহল। যদি এই নববর্ষ উৎসব না থাকতো, তাহলে আমরা হয়তো নূরজাহানকেও পেতাম না, বিশ্বের বিস্ময় তাজমহলও পেতাম না।
No comments:
Post a Comment