বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে মার্কিন সপ্তম নৌবহর
পাঠানোর হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের পাল্টা
হুমকিতে নৌবহর পাঠায়নি মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সেই সপ্তম নৌবহর আবার আলোচনায়
এসেছে। গতকাল শুক্রবার ভারতের বেসরকারি টাইমস নাউ টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে
বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চট্টগ্রাম বন্দরে সপ্তম নৌবহর পাঠাতে চায়।
তবে
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা গতকাল প্রথম
আলোকে জানান, বিষয়টি সত্যি নয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন
তাঁর সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে
আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সপ্তম নৌবহরের প্রসঙ্গ তোলেননি।
টাইমস
নাউ টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত স্বার্থে
চট্টগ্রাম বন্দরে সপ্তম নৌবহরের ঘাঁটি গড়তে চায়। কারণ, দক্ষিণ চীন সাগরের
ঘাঁটিগুলোতে চীনের শক্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন।
ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। তার পরও এশিয়ায়
সার্বিক উপস্থিতি বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। চট্টগ্রামে মার্কিন সপ্তম নৌবহর
মোতায়েন করা গেলে যুক্তরাষ্ট্র চীনের দিকে নজর রাখতে পারবে এবং
আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর এটিই হবে মার্কিন কৌশলগত সুবিধাজনক
অবস্থান।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য হিলারির ঢাকা সফরের সময় কোনো
ধরনের সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে। এ ব্যাপারে
টাইমস নাউ টেলিভিশনের পক্ষ থেকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র
ভিক্টোরিয়া ন্যুলান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই প্রশ্ন
পেন্টাগনের কাছে করা যেতে পারে। কিন্তু হিলারির সফরের সময় এমন কোনো আলোচনা
হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর
পেন্টাগনের প্রতিবেদনে দক্ষিণ চীন সাগরসহ এশিয়াজুড়ে চীনের শক্তি বাড়ছে ভেবে
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। টাইমস নাউ টেলিভিশনের
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি নিয়ে কথা
বলছে না। তবে কট্টরপন্থীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় সরকার
অভ্যন্তরীণভাবে সপ্তম নৌবহর মোতায়েনের বিষয়টি নাকচ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত
নিয়েছে।
টাইমস নাউ টেলিভিশনের বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ
করলে একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সপ্তম নৌবহর চট্টগ্রামে মোতায়েনের ব্যাপারে
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে—এমন কোনো বিষয় আমার জানা নেই।’
এদিকে
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে
প্রস্তাবিত অ্যাকুইজিশন ও ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট (আকসা) চুক্তি সইয়ের
ব্যাপারে আবার আগ্রহী হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৬ সালে দেওয়া প্রস্তাবটি
নিয়ে গত বছর থেকে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে মার্কিন প্রশাসন। এ বিষয়ে কথা বলতে
হিলারির ঢাকা সফরের এক সপ্তাহ পর একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন সামরিক
প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে।
পররাষ্ট্রবিষয়ক একটি বিশেষ সূত্র জানায়,
প্রস্তাবিত আকসা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর জন্য জ্বালানি,
সমরাস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের জোগান দেবে যুক্তরাষ্ট্র। আর সামরিক এ
সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য মার্কিন সেনারা বাংলাদেশে আসবে। আকসা চুক্তি
বিরোধিতাকারীদের মতে, এ চুক্তি সই হলে একটি দেশে মার্কিন সেনা সমাবেশ
অনিবার্য হয়ে ওঠে।
No comments:
Post a Comment